অর্ধ কোটি টাকার সম্পদ থেকেও হোটেল শ্রমিক মহেশ

লেখক: হাসান বাপ্পি, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নে চোপড়া পাড়া এলাকার বাসিন্দা মহেষ চন্দ্র বর্মণ। শহরের একটি হোটেলে দিন মজুরিতে কাজ করেন তিনি। সেখানে দৈনিক পাওয়া ৩০০ টাকা দিয়েই চলছে তার ৫ সদস্যের পরিবার।

যদিও এসময় তার একটি স্বচ্ছল জীবনযাপন করার কথা। পৈত্তিক সূত্রে তিনি সাড়ে তিনবিঘা জমির মালিক। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। কিন্তু অবৈধ দখলদারের খপ্পরে পরে সেই জমি তার জন্যে এখন শুধুই স্বপ্ন।

মহেষ চন্দ্র বর্মণের অভিযোগ, বাবা বেঁচে থাকতেই জমি কিনেছেন৷ বাবার নামে জমি রেকর্ডও করা হয়েছে। জমি চাষাবাদ করে সংসার চালাতেন বাবা। বাবার মৃত্যুর পরই আবাদি জমি জবর দখলে নেন গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি সোহেল শাহ্ ও তার চাচারা।

তিনি বলেন, জমি ফিরে পেতে বারবার তাদের কাছে ঘুরেও কোন লাভ হয়নি। উল্টো আমাদের প্রাণ নাশের ভয়ভীতি দেখিয়ে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে। আমি জমিতে হাল দিয়ে আসি আর উনারা জোর পূর্বক ফসল ফলান। আমি নিরুপায় হয়ে থাকি। বাবার দেয়া শেষ সম্বল ওই সাড়ে তিনবিঘা জমি তাদের বেদখলে থাকায় আমার পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছে। আমি কোনমতে হোটেলে কাজ করে সংসার পরিচালনা করছি।

এ বিষয়ে কোন লিখিত অভিযোগ কোথাও দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে মহেষ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এখনো বসা হয়নি। আমি তো হিসাব বুঝিনা। জমির কাগজ পত্র যা আছে সব দেবো। আইনত যদি আমি জমির মালিক না হই তাহলে জমি নিবোনা। আর যদি জমির মালিক হই তাহলে যেন আমার বাবার শেষ সম্বল আমাকে ফেরত দেয়া হয়।

স্থানীয়রা বলছেন, মহেষের বাবা বিশ্বনাথ বর্মণ বেদখলে থাকা জমিতে চাষাবাদ করতেন। সে জমির পাশে অন্য মালাকানাধিন জমি কিনে সোহেল শাহ এর পরিবার। তখন থেকেই তারা পুরো জমিটায় নিজেদের করে রেখেছে। পরিবারটি সংখ্যালঘু হওয়ায় চেপে বসেছে দখলকারীরা। আমরা যারা সমাজে বসবাস করি সকলের উচিৎ মৃত বিশ্বনাথের পরিবারকে ন্যায় বিচার পেতে সহযোগিতা করা। চেয়ারম্যান উদ্যোগ নিলে আমরা পাশে থাকবো।

তবে সোহেল শাহ্ এর দাবি, মহেষের জন্মের আগেই তার বাবা আমাদের বাবা দাদাদের কাছে জমি বিক্রি করেছেন। সেই সূত্রে আমরা জমিটি ভোগ দখল করে আসছি দীর্ঘ অনেক বছর ধরে। সে আমার কাছে জমির সমাধানের জন্য এসেছিলেন। আমি বলেছি সেটি স্থানীয়দের নিয়ে বসে সংশোধন করবো। শুনেছি সে চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করেছে। চেয়ারম্যান আমাকে নোটিশ করলে সেখানে যাবো।

গড়েয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রইসউদ্দীন সাজু বলেন, গত তিনদিন আগে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে একটি অভিযোগ দিয়েছেন মহেষ চন্দ্র বর্মণ। আমি দুই পক্ষকে নোটিশ করে পরিষদে বসার ব্যবস্থা করবো এবং জমির সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবো।

বিডি/বাপ্পী