ক্রয় ক্ষমতা সাধ্যের বাইরে চলে গেছে, মানুষ কোরবানীর পশু কিনতে পারছেনা-মির্জা ফখরুল

লেখক: বাংলা ২৪ ভয়েস ডেস্ক
প্রকাশ: ১ মাস আগে

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মুদ্রাস্ফীতি যেভাবে বেড়েছে তাতে সাধারন মানুষের ক্রয় ক্ষমতা সাধ্যের বাইরে চলে গেছে, মানুষ কোরবানীর পশু কিনতে পারছেনা। তাই এবারের কোরবানি ঈদ সাধারন মানুষের খারাপ যাবে।

মির্জা ফখরুল (১৬জুন) রবিবার দুপুরে তার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের কালিবাড়ির নিজ বাসভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের এসব কথা বলেন। এসময় জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ফয়সল আমিন সহ জেলা, উপজেলার বিএনপির নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, সরকার দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করে দিয়েছে। আইন এবং অর্থনীতিকে চরম খারাপ অবস্থা নিয়ে এসেছে। বেনরজি ও আজিজ ইস্যু ওপেন হওয়া উচিত। যে সকল কমকর্তা কর্মচারিরা মনে করছেন যে এদেশে আওয়ামীলীগকে সমর্থন করে টিকে থাকতে পারবেন , বেনরজি ও আজিজ তার প্রমাণ। লুট করে চুরি করে অন্ধের মতো একটি অজনপ্রিয় অবৈধ সরকারকে সমর্থন করলে সেখানে টিকে থাকা সম্ভব নয়। বেনরজি ও আজিজকে বলির পাঠা বানিয়েছে ওই আয়ামীলীগ সরকারই। এখন থলের বিড়াল এক এক করে বেড়িয়ে আসতে শুরু করেছে। তাই বিএনপি অনেক দিন থেকেই বলে আসছে, এই সরকার রাষ্ট্র যন্ত্রকে ব্যাবহার করছে সরকারি কর্মকর্তাদের চুরির সুযোগ করে দিচ্ছে। এখন এই সরকার আওয়ামীলীগের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। তাই এই সরকারকে এই মুহুর্ত্বে পদত্যাগ করা উচিত, কারণ তারা রাষ্ট্র পরিচালনা করতে করতে পুরোপুরি ব্যার্থ।

তিনি আরো বলেন, বিএনপি দলের প্রয়োজনে তার সাংগঠনিক পরিবর্তন করবে। সরকারের দমন পিড়নের কারণে আন্দোলন সাময়িক সীমিত হয়েছে, আন্দোলন কখনো ব্যার্থ হয়না। বিএনপির আন্দোলন চলমান রয়েছে, আগামীতে আরো তীব্র হবে। বিএনপির অনেক পদ শুণ্য ছিল, অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন সেই কারণে ওই পদগুলোতে নতুনদের দিয়ে পূরণ করা হয়েছে। এতে আগামীতে দল আরো শক্তিশালী হবে। কিছু সাংবাদিক রয়েছে তারা শুধু বিএনপির ছিদ্র ও দুর্বলতা খোঁজে। কিন্তু আওয়ামীলীগ দেশকে লুট করে শেষ করে দিয়েছে সেই সব সাংবাদিক আওয়ামীলীগের ছিদ্র খুঁজতে সাহস পায়না। সহস করে না দাড়ালে সংবাদ মাধ্যমে টিকে থাকতে পারবেন না। এই সরকার ১৯৭৫এর ১৬জুন এ মাত্র ৪টি পত্রিকা রেখে দেশের সকল পত্রিকা নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল। সেই সময়ে অনেক সাংবাদিক ফেরি ও ভিক্ষা করতেন। আজকে আওয়ামীলীগ সেই অবস্থা নিয়ে এসেছে।

সেন্টমার্টিন মিনানমার ইস্যুতে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের সমুদ্র সীমায় বাধাগ্রস্থ করা হচ্ছে, যেভাবে যুদ্ধ জাহাজ রেখে গোলাগুলি ওকরা হচ্ছে তা বাংলাদেশের উপর প্রচন্ড রকম হুমকি। কিন্তু এই অনির্বাচিত সরকার যারা ক্ষমতায় বসে আছে তাদের কাছে সার্বভৌমত্ব বিষয়টি কোন প্রভাব বিস্তার করছেনা। তারা এখন পর্যন্ত কোন স্টেমেন্ট য়ে নাই যা দু:খজনক! আর্ন্তজাতিক বিশে^র কাছে বিষয়টি তুলে ধরে বলতে হবে। কিন্তু সরকার তা এখনো করে নাই। যার ফলে এই সরকারের উপর মানুষের আস্থা কিভাবে থাকবে ? এই সরকার দুর্বল ও নতজানু সরকার, বিদেশের উপর নির্ভর করে টিকে রয়েছে। তাই বিএনপি মনে করে এই সরকারের এখনই পদত্যাগ করা উচিত।

কতৃত্ববাদী দেশগুলোতে এখন নির্বাচন করাটা একটা নাটক,তামাশা যা দেখাতে হয় – আসলে নির্বাচনের কিছুই হয়না। নির্বাচনের আগেই বিরোধী দলগুলোর নেতাদের গ্রেফতার দেখানো হয় সাজা দেয়া হয়। ভারতের নির্বাচন তার প্রমাণ। কারণ হলো এখন যে শাষকরা রয়েছে তারা কতৃত্ববাদ। তাই বিএনপি সহ ৬৩টি দল একত্রিত হয়েছে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য একজোট হয়ে এইসরকারকে সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

ডেস্ক/বিডি

  • ক্রয় ক্ষমতা সাধ্যের বাইরে
  •    

    কপি করলে খবর আছে