গেট খুলতে দেরি হওয়ায় আ’লীগ নেতাকে ঝাড়ু দিয়ে পেটালেন পৌর কাউন্সিলর

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৯ মাস আগে

বাড়ীর গেট খুলতে দেরি হওয়ায় ওয়ার্ড আ’লীগের এক নেতাকে ঝাড়ু দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেছেন এক পৌর কান্সিলর।এ ঘটনায় আহত সেই ব্যক্তি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গতকাল ১৬ মে দিবাগত রাতে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের ১ নং ওয়ার্ডের টিটিসি মোড় নামক এলাকায়।
হাসপাতালের বেডে কাতরাতে কাতরাতে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শুখানপকুরী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম (৩২) অভিযোগ করে জানান, তার দুই স্ত্রী এবং সে পেশায় মোবাইল ফ্লেক্সিলোড ও সাউন্ড সিষ্টেম ব্যবসায়ী। ১ম স্ত্রী নাসরিনকে নিয়ে তিনি শুখানপুকুরী ইউনিয়নে থাকেন এবং ২য় স্ত্রী জান্নাতুন তার ছোট শিশু কন্যাকে নিয়ে শহরের টিটিসি মোড়ের বাসায় থাকেন।
২য় স্ত্রীর সাথে সামান্য মনোমালিন্য ও মতবিরোধ হওয়ায় সে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জমিরুল ইসলামের নিকট বিরোধ নিস্পত্তির জন্য অভিযোগ দেয়। ঘটনার দিন অর্থাৎ গতকাল(১৬ মে) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে তিনি শহরের বাসায় গিয়ে দেখেন তার স্ত্রী বাসায় নেই এবং গেটে তালা দেওয়া। পরে তিনি বিকল্প চাবি দিয়ে গেট খুলে ভিতরে যান এবং স্ত্রী সন্তানের আসার অপেক্ষা করেন। এদিকে রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার দিকে একজন অপরিচিত মহিলা তাকে গেট খুলতে বলেন।তা দেখে তিনি গেট না খুলে তার স্ত্রী সাথে আছে কিনা তা জানতে চান।কিন্তু সেই মহিলা তা না শুনে গেট খুলে দেওয়ার জন্য জোড়াজুড়ি করতে থাকেন এবং বলেন, দাড়ান আমি কাউন্সিলরকে ডাকি, বলেই তিনি কাকে যেন ফোন দেন।
এর কিছুক্ষণ পরে প্রায় ৫০-৬০জন লোক তার বাসার সামনে এসে চিৎিকার চেঁচামেচি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে সে ৯৯৯-এ ফোন দিতে দিতে গেট খুলা মাত্রই ওয়ার্ড কাউন্সিলর জমিরুল তাকে পেয়ে নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন এবং সামনে পড়ে থাকা ঝাড়ুু ও বাঁশ দিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকেন আর বলেন, ব্যাটা তোর বাপ গেটে দাড়ায় আছে আর তোর গেট খুলতে এতো দেরি! এসময় তার সাথে আসা ৫০-৬০ জন লোকও তাকে পিলারে বেঁধে মারধর করেন এবং আমার কাছে জোরপূর্বক দেড় লক্ষ টাকা দাবি করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান। তিনি এ ঘটনার ন্যায় বিচার দাবি করেন।
মাধররের বিষয়ে জানতে শুখানপুকুরী ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি জীবন কুমার ঘোষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমিরুল ইসলাম এ ইউনিয়নের ৫নং ব্লকের সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন।তার উপর এধরণের ন্যাক্কারজনক হামলা মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার পর থেকে ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন হাসপাতালে রয়েছেন। আমরা আগামীকাল উপজেলা ও জেলা আ’লীগ নেতৃবৃন্দর কাছে যাবো।এছাড়াও এর সুষ্ঠ বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে শুখানপুকুরী ইউপি চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান বলেন, ঘটনা শুনে তাকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলাম।এ ঘটনায় আমি ভুক্তভোগিকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।
ঝাড়ু দিয়ে পিটানোর বিষয়ে জানতে চাইলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন অভিযুক্ত ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জমিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমিরুল একজন ফেন্সিডিল ব্যবসায়ী-এমন অভিযোগ রয়েছে এলাকায়। পরে তার স্ত্রী জান্নাতুনের অভিযোগের ভিত্তিতে তার বাসায় গেলে সে আমাদের আধাঘন্টা বাইরে দাড় করিয়ে রাখে-পরে গেট খুললে উত্তেজিত হয়ে তাকে সামনে পড়ে থাকা ঝাড়ু দিয়ে দুটি বারি দিয়েছি। তবে টাকা দাবির বিষয় অস্বীকার করেন তিনি।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভিরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
বিডি/ডেস্ক