চিনিকলকে বাঁচাতে হলে ঘুরে দাঁড়াতে হবে -ঠাকুরগাঁওয়ে শিল্প সচিব

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১ বছর আগে

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানা বলেছেন, ‘চিনিকলকে বাঁচাতে হলে ঘুরে দাঁড়াতে হবে’, যদি আমরা ঘুরে দাঁড়াতে না পারি তাহলে আমাদের চেয়ে থাকা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না। তাই আমাদের প্রতিজ্ঞা করতে হবে, আমরা যাতে ঘুরে দাঁড়াতে পারি। ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য যে যে কাজ করা দরকার, প্লানিং করা দরকার সেভাবে করা হবে, তবে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা আগামী বছরে একটা কিছু করে দেখাবো। আমরা যদি ফলন ভাল পাই তাহলে আগামীতে ভাল কিছু হবে।

রোববার (৫ মার্চ) ঠাকুরগাঁও সুগার মেিলর ট্রেনিং কমপ্লেক্সে চিনিকলের সার্বিক বিষয় নিয়ে মিল ব্যবস্থাপনা ও আখ চাষীদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, সময় এসে গেছে ঘুরে দাঁড়াবার। আমাদের সবাইকে ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা নিতে হবে। কমিটমেন্ট নিতে হবে। এ মাটি মানুষের সন্তান আমরা। সকলে মিলে মিশে কাজ করতে চাই। যে কাজে আমরা উপকৃত হবো, দেশ উপকৃত হবে, সরকার উপকৃত হবে। সবাই মিলে যদি আমরা এ শিল্পকে বাঁচাতে চাই তাহলে আমাদের সম্বিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন। আপনারা আমাদের এই সুযোগ তৈরী করে দিবেন। যেন প্রধামন্ত্রীকে আমরা বোঝাতে সক্ষম হই যে, তখনকার প্রতিষ্ঠান আর এখনকার প্রতিষ্ঠান এক নয়। আমরা বাহিরে থেকে কোন ভ্যারাইটি আনিনি। আমাদের দেশের ভ্যারাইটি দিয়েই ভাল ফলন পাব। আমার দেশে কাজ করবে, যে ভ্যারাইটির সহনশীলতা আছে। সেটা আবাদ করলে ফলন ভাল হবে।

তিনি আরও বলেন, এটি এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেটাকে বে-রাষ্ট্রিয়করণ থেকে রাষ্ট্রিয়করণ করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর হাতে গড়া এ প্রতিষ্ঠান আমরা ধ্বংস করতে বসেছি। মাত্র ১৫-২০ দিন চালিয়ে যদি আমরা প্রতিষ্ঠান বাঁচিয়ে রাখতে চাই, তাহলে পারবো না। এটা রক্ষার একমাত্র উপায় এখান থেকে লাভ বের করে দিয়ে সরকার প্রধানকে দেখিয়ে দিতে হবে। ভাল বীজ দিলে ভাল ফলন হয়; তবে ভাল বীজ হলেই হবে না। সময়মত কার্যকরী পদক্ষেপগুলো গ্রহন করতে হবে। আপনাদের ফলন ভাল হলেই ধীরে ধীরে এখানে আমরা সুগারক্যান হারভেস্টার আনবো। সবকিছু দেওয়ার পরে আমার রিকোভারী ভাল না হয় তাহলে কষ্টের শেষ থাকে না।

গত বছরে আপনারাই কথা দিয়েছিলেন যে, মিলে চিনি উৎপাদন হবে ৫৪ হাজার মে:টন। কিন্তু সেখানে হয়েছে ২১ হাজার। কিভাবে সম্ভব! যেখানে ৩ গুন উৎপাদন বাড়ানোর কথা, সেখানে অর্ধেকেরও কম উৎপাদন পাওয়া যায়। এভাবে হলে সরকারের কাছে কি বলার উপায় আছে যে, মিলগুলি চালু থাক। আমরা চাই না আপনারা পরিবার পরিজন নিয়ে সমস্যায় থাকেন।

ঠাকুরগাঁও সুগার মিলস লিমিটেডের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: শাহজাহান কবিরের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন, প্রধান অতিথি শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানা, বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান (গ্রেড-১) মো: আরিফুর রহমান অপু, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আফরোজা বেগম পারুল, বিএটি বাংলাদেশের ন্যাশনাল গ্রোয়িং ম্যানেজার বেলায়েত আলী আহসান।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, ঠাকুরগাঁও চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) মো: আবু রায়হান, ঠাকুরগাঁও সুগার মিল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নরে সভাপতি মো: উজ্জল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এনায়েত আলী উলুব্বী, কেন্দ্রীয় আখচাষী সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, আখচাষী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আলহাজ¦ মো: ইউনুস আলী, সিডিএ দিননাথ পাল, জামিল আক্তার প্রমুখ।

এর আগে শিল্প সচিব ট্রেনিং কমপ্লেক্স ভবনের সামনে একটি কৃষ্ণচুড়া গাছ রোপন করেন।

বিডি/ডেস্ক

  • চিনিকলকে বাঁচাতে হলে ঘুরে দাঁড়াতে হবে
  •    

    কপি করলে খবর আছে