ঠাকুরগাঁওয়ের গড়েয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ১০ টাকা কেজির চাল বিতরণে চরম অনিয়ম !

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৮ মাস আগে

হতদরিদ্র পরিবারের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ১০ টাকা কেজি চাল প্রদানে চরম অব্যস্থাপনা ও অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ১৩নং গড়েয়া ইউনিয়নে। ২০১৬ সালে দরিদ্রদের তালিকা করে ১০ টাকা কেজি চাল বিতরণের কার্ড করা হলেও সেই তালিকায় বাদ পড়ে প্রকৃত হতদরিদ্ররা। আবার তালিকায় একই ব্যক্তির দুইবার নাম থাকা সত্বেও গত পাঁচ বছরে এক ছটাক চালও পায়নি তার পরিবার।তবে চাল বিতরণে অনিয়মের বিষয়টি জানার পর তালিকা সংশোধন সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।
২০১৬ সাল থেকে দরিদ্রদের জন্য ইউনিয়ন ভিত্তিক হতদরিদ্রদের তালিকা করে ডিলারের মাধ্যমে ১০ টাকা কেজি চাল বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে সরকার।এতে দরিদ্র পরিবারগুলোর উপকার হওয়ার কথা থাকলেও ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নে জনপ্রতিনিধিদের স্বজনপ্রীতি, অর্থের বিনিময়ে কার্ড করে দেওয়া, একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নামে কার্ড করা সহ চরম অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণে সরকারের এ মহৎ উদ্দেশ্য আজ প্রশ্নবিদ্ধ।
সরেজমিনে গিয়ে ৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের ৪নং ওয়ার্ডের তালিকা থেকে চাল উত্তোলনের সত্যতা পাওয়া যায়।
এ অনিয়মের মাত্রা এতটাই বেপরোয়া ছিলো যে একই ব্যক্তির নাম তালিকায় দুইবার ব্যবহার করে ৫ বছর যাবৎ চাল উত্তোলন করা হলেও সেই ব্যক্তি জানতেই পারেননি সরকারের ১০ টাকা কেজির চাল বিতরন তালিকায় দুই দুই বার তার নাম রয়েছে।যার একটির সিরিয়াল নম্বর ১৪৫৭ ও অপরটি ১৫২৭।এবার ইউপি নির্বাচনের পর তালিকায় দুইবার নাম দেখে হতবাক হয়ে পড়েন তিনি।
শুধু তাই নয়, ওয়ার্ড ভিত্তিক কার্ড বিভাজনেও করা হয়েছে অনিয়ম।ওয়ার্ড প্রতি ১৮১টি কার্ড বরাদ্দ থাকার কথা থাকলেও কোন ওয়ার্ডে কার্ড দেওয়া হয়েছে ১৯২টি, কোনটিতে ১৫৪ আবার ৪০০টির অধিক কার্ড প্রদান করা হয়েছে একটি ওয়ার্ডে-যেখানে নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কাই করা হয়নি।
আবার ৪ নং ওয়ার্ডে প্রদান করা হয়েছে ১৫৪টি কার্ড, অথচ ওই ওয়ার্ডের মাত্র ৬০টি দরিদ্র পরিবার রয়েছে প্রকৃত কার্ডধারি বাকি ৯৪টি কার্ডধারী অন্য কোনো ওয়ার্ডের বাসিন্দা-এতে ওই ওয়ার্ডে বাস করা দরিদ্র পরিবারগুলোর সাথে করা হয়েছে চরম অবিচার।সেখানে এমনও পরিবারের দেখা মিলে যেসব পরিবার বছরের পর বছর অর্ধাহারে অনাহারে দিন যাপন করছে।
এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য পুণরায় যাচাই-বাছাই করে নতুন তালিকা প্রণয়ন করে প্রকৃত হতদরিদ্রদের ১০ টাকা কেজির চাল প্রদানে উপজেলা প্রশাসন সহ সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বেলাল হোসেন রেনু।
ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে মোট উপকারভোগি পরিবার রয়েছে ১৬৩২টি। আর এই ১৬৩২টি পরিবারের মধ্যে ৮৩২ জন করে সীতানাথ ও রবিন চন্দ্র মোদক নামে দুইজন ডিলার গত ৫ বছর ধরে চাল বিতরণ করে আসছেন।নিয়ম অনুযায়ী চেয়ারম্যান-মেম্বারদের উপস্থিতিতে চাল বিতরণ করার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি এখানে।
এদিকে পূর্বের তালিকার সাথে ডিলারদের বর্তমান তালিকার মিল না পাওয়ায় সকল ইউপি সদস্যদের সমন্বয়ে নতুন তালিকা তৈরীর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন গড়েয়া ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো: রইসউদ্দিন সাজু।
এ বিষয়ে ডিলাররা জানান, এখানে আমাদের কোনো গাফিলতি নেই।আমাদের খাদ্য অফিস থেকে যে তালিকা সরবরাহ করা হয়েছে তা দেখে দেখে কার্ডধারীদের চাল প্রদান করে আসছি।
এদিকে সরকারের ১০ টাকা কেজির চাল প্রদানে অনিয়মের বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন সহ ওয়ার্ড ভিত্তিক বিভাজন যাতে সঠিক হয় এবং প্রকৃত দরিদ্র পরিবারগুলোই যাতে কার্ড পায় তা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু তাহের মো: সামসুজ্জামান।
বিডি/ডেস্ক