ঠাকুরগাঁওয়ের প্রথম শহীদের মৃত্যুর তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি

লেখক: বাংলা ২৪ ভয়েস ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

১৯৭১-এর ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণার পরদিন মিছিল-স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে ঠাকুরগাঁও শহর। মিছিলের জনতার সঙ্গে একসময় মুখোমুখি হয় পাকিস্তানি বাহিনী। তাদের দেখে মুক্তিকামী মানুষ জ্বলে ওঠে। মিছিলের পেছন থেকে সামনে এগিয়ে গিয়ে রিকশাচালক মোহাম্মদ আলী স্লোগান ধরেন, ‘জয় বাংলা … ‘। সঙ্গে সঙ্গে পরপর তিনটি গুলি চালায় পাক বর্বররা। চিৎকার করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মোহাম্মদ আলী।

মুক্তিযুদ্ধে ঠাকুরগাঁওয়ের প্রথম শহীদ মোহাম্মদ আলীর স্মৃতি রক্ষায় পৌরসভার কালীবাজার এলাকায় সমাধিস্তম্ভ নির্মাণ করা হলেও সেখানে তাঁর শহীদ হওয়ার তারিখ লেখা হয়েছে ১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ। প্রথম শহীদের মৃত্যুর তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি এখনো রয়েই গেছে। মোহাম্মদ আলী ঠাকুরগাঁও সদরের বাসিন্দা ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান আকবর হোসেন বলেন, মোহাম্মদ আলী যেদিন (২৭ মার্চ) শহীদ হন, সেদিন তিনিও সেখানে ছিলেন। সমাধিস্তম্ভে যে তারিখ লেখা আছে, তা সঠিক নয়। ২০০৫ সালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঠাকুরগাঁও ফাউন্ডেশন ঠাকুরগাঁও পরিক্রমা: ইতিহাস ও ঐতিহ্য নামে একটি গ্রন্থ প্রকাশ করে। ওই গ্রন্থের ৩৭০ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলি’ শিরোনামে একটি লেখা আছে। সেই লেখার ৩৭৫ নম্বর পৃষ্ঠায় লেখক মোহাম্মদ এমদাদুল হক ১৯৭১ সালে ঠাকুরগাঁওয়ের তৎকালীন সিও ডেভ আবদুল ওহাব আন্ধার মানিক রচিত অমর কাহিনীকার গ্রন্থের বরাত দিয়ে লিখেছেন, ২৭ মার্চ ঠাকুরগাঁও শহরের সাউথ সার্কুলার সড়ক (চৌরাস্তা থেকে কালীবাড়ি মোড়) ধরে জনতার মিছিল এগিয়ে চলে কালীবাড়ির দিকে। ওদিকে ইপিআর ক্যাম্প থেকে একটা জিপ চেপে শহরের পরিস্থিতি দেখতে বের হন মেজর মোহাম্মদ হোসেন, সুবেদার মেজর কাজিমউদ্দিন ও ক্যাপ্টেন নাবিদ আলম। তাঁদের পেছনের পিকআপ গাড়িতে ৮ থেকে ১০ জন ইপিআর জওয়ান।

দুপুর ১২ টা ১০ মিনিটে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক কেরামত আলীর বাসার সামনে জনতার মিছিল মেজরের জওয়ানদের মুখোমুখি হয়। মেজর মোহাম্মদ হোসেন ও ক্যাপ্টেন নাবিদ আলম জিপ থেকে নেমে এসে মিছিলের সামনে জানতে চান, ‘তোমরা কী চাও?’ এ কথা শুনে মিছিলের জনতা বারুদের মতো জ্বলে ওঠে। স্লোগান শুরু হয়, ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’।

মিছিলের পেছন থেকে মধ্যবয়সী রিকশাচালক মোহাম্মদ আলী সবার সামনে চলে এসে চিৎকার করে বলেন, ‘জয় বাংলা, স্বাধীন বাংলা’ । সঙ্গে সঙ্গে তিনটি গুলির আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন মোহাম্মদ আলী। এ খবর ছড়িয়ে পড়ে গোটা শহরে। জনতা ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে। শহীদ মোহাম্মদ আলীকে রাস্তার পূর্ব পাশে দাফন করা হয়।

একই দিন বিকেলে ‘মোহাম্মদ আলী স্বাধীনতাযুদ্ধে ঠাকুরগাঁওয়ের প্রথম শহীদ’ লেখা সংবলিত পোস্টার সড়কে সাঁটিয়ে দেয় জনতা। এ ছাড়া প্রামাণ্য সালাহউদ্দিন গ্রন্থে মোহাম্মদ আলীকে জেলার প্রথম শহীদ উল্লেখ করে মৃত্যুর তারিখ লেখা আছে ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ।

ঠাকুরগাঁও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আবদুল মান্নান বলেন, তারিখের বিভ্রান্তি দূর করা উচিত।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মোঃ সামসুজ্জামান নয়া দিগন্তকে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের সঙ্গে আলোচনা করে সঠিক তারিখ জেনে নেওয়া হবে।

বিডি/আপেল