ঠাকুরগাঁওয়ে ইউপি সদস্যের নারী কেলেংকারীর ঘটনা ফাঁস; এলাকায় তোলপাড়!

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া ঢোলারহাট ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য সুজন আলী(২৮)’র বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারী সহ নানা অভিযোগ উঠেছে। নারী কেলেংকারীর শিরোমনি ইউপি সদস্য সুজনের নানা অপকর্মে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসি।

জানা যায়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার দিবাগত রাতে সংরক্ষিত (৪,৫,৬, নং ওয়ার্ড) ইউপি সদস্য নির্মলা মিনা টপ্য’র বাড়িতে সুজনের সাথে স্থানীয় যুবক মাহাবুব আলমের সাথে মারামারির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রতিবেশিরা তাদের মারামারির ঘটনা জানতে চাইলে মাহাবুব জানায় ইউপি সদস্য সুজন মহিলা ইউপি সদস্য নির্মলা মিনা টপ্য বাড়িতে শরীরের সমস্ত কাপড় খুলে শর্ট পেন্ট পরে শুয়ে ছিল, আমি তা ভিডিও ধারণ করতে ছিলাম। এসময় সুজন আমাকে দেখে ফেলায় সে আমার উপর হামলা করে।

এদিকে সুজনের হামলা ও হুমকিতে মাহবুব আলম মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।

এ বিষয়ে মহিলা ইউপি সদস্য নির্মলা মিনা টপ্য’র কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার শোবার ঘরে সেদিন সুজন মেম্বার ছিল সেটা আমি দেখিনি এবং জানিনা। আমি আমার রোগীর ঘরের চেম্বারে ছিলাম। পরে তাদের মারামারিতে আমার মেয়ের ডাকে আমি বাইরে বের হই। আমাকে দেখে তারা দু’জনই চলে যায়। তবে ইউপি সদস্য সুজন তার বাসায় শর্ট প্যান্ট পড়ে শুয়ে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে মিনা আর কোন মন্তব্য করেন নি।

মিনার স্কুল পড়ুয়া মেয়ে ট্রপলা রানী সংবাদ মাধ্যমকে জানায় সুজন আমাদের বাসায় প্রায় সময় আসে এবং বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে। মাঝে মাঝে সে রাস্তাঘাটে আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং জোরপূর্বক আমার হাত ধরে। সেদিনের ঘটনার পর সে আমার আম্মা এবং আমাকে কল দিয়ে বলেছে আমরা যদি কারো সামনে মুখ খুলি বা সত্য কথা বলি তবে সে আমাকে রেপ করবে।

ভিডিও ধারণকারী মাহাবুব আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সুজন মেম্বার আমাকে মারপিট করছে, এ ব্যপারে আমি চেয়ারম্যান অখিল চন্দ্রকে অবগত করছি। গোপন ভিডিও বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেদিনের ঘটনার ভিডিও আমার কাছে। এ বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বাররা বসে মীমাংসার কথা বলেছে। এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

এদিকে স্থানীয় জনগণের প্রশ্ন.. যদি সেদিন কিছুই হয়নি তাহলে রাতের আঁধারে সুজন মেম্বার ও মাহাবুব কেন মহিলা সদস্যের বাড়িতে গেল এবং কিসের ভিডিওর কথা নিয়ে মারপিট করেছে তারা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে লম্পট ইউপি সদস্য, মাহাবুব এবং মহিলা সদস্যকে নিয়ে পুরো ইউনিয়নে চাঞ্চল্যকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, সুজন মেম্বার কয়েক মাস আগে তাদের মোবাইলে ফোন করে বিভিন্ন অনৈতিক সম্পর্কের কথা বলে, এতে করে রাজি না হলে তিনি বিভিন্ন ভাবে হুমকি প্রদান করেন। এছাড়াও তিনি অসহায় নারীদের বলেন, তোমার যদি ভিজিডি কার্ড দরকার হয় তাহলে রাতে একাই আমার বাড়িতে আসিও। এভাবে এলাকার একাধিক অসহায় মহিলা সুজন মেম্বারের নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে।

সুজন ২১নং ঢোলারহাট ইউনিয়নের ইউপি সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ক্ষমতার দাপট দিয়ে এলাকার বিবাহিত থেকে শুরু করে স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদেরও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে কু প্রস্তাব সহ শ্লীলতাহানি করে আসছে বলে শোনা গেছে। তার এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলেই তাকে বিভিন্ন হুমকি ও বাধাগ্রস্তর মুখে পরতে হয়।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সুজন আলীর সাথে সরাসরি ও মোবাইল যোগে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একই ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক ইউপি সদস্য জানান, সুজন মেম্বার নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সন্ত্রাসী কায়দায় বেশ কয়েকজন ইউপি সদস্যকেও মারপিট করছে তার বিচার হওয়া দরকার বলে মন্তব্য করেন তারা।

এ বিষয় ঢোলারহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অখিল চন্দ্র রায় বলেন, বিষয় টা আমি শুনেছি। একদল এ বিষয় নিয়ে বসতে চেয়েছে কিন্তু পরর্বতীতে কেউ আমার কাছে আসেনি এবং সুজন মেম্বার এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করতে পারিনি।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু তাহের মোঃ সামসুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে এখনো কেউ আমার কাছে অভিযোগ করেনি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিডি/ডেস্ক

  • ইউপি সদস্যের নারী কেলেংকারীর ঘটনা ফাঁস; এলাকায় তোলপাড়!
  •