ঠাকুরগাঁওয়ে এমপি’র প্রতিবাদ সমাবেশেও মটরসাইকেল মার্কায় ভোট চাইলেন আ.লীগ নেতারা!

লেখক: বাংলা ২৪ ভয়েস ডেস্ক
প্রকাশ: ১ মাস আগে

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন একটি পক্ষ নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে আরেক পক্ষের সমর্থক ঠাকুরগাঁও পৌরসভার প্যানেল মেয়রের এমপির সমালোচনা করে একটি নির্বাচনি সভায় বক্তব্য রাখেন। প্যানেল মেয়রের বক্তব্যের প্রতিবাদ সমাবেশেও এমপি সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ইন্দ্রনাথ রায়সহ আ.লীগ নেতারা। ফলে এমপির প্রতিবাদ সভা নির্বাচনী সভায় পরিণত হয়। সংসদস সদস্যের গ্রামের বাড়ি রুহিয়া থানায় এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা একই ভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালান।
বৃহস্পতিবার রাত ৮ টার দিকে জেলা সাবেক ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের ব্যানারে  শহরের বাসস্ট্যান্ড চত্বরে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রতিবাদ সমাবেশ এ নির্বাচনী প্রচারণা চালান আওয়ামী লীগ নেতারা।
প্রতিবাদ সভায় একে একে আওয়ামী লীগ ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা বক্তব্য দেয়ার এক পর্যায়ে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক। সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে তাকে হুমকি স্বরুপ সমালোচনা করায় নিজের মন্তব্য প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন। প্রতিবাদ সভায়  বক্তব্যের এক সময়ে এই আওয়ামী লীগ নেতা সদর উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোশারুল ইসলাম সরকারের মোটর সাইকেল প্রতিকে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।
এ সময় অন্যান্যদের মাঝে প্রতিবাদী বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড.মোস্তাক আলম টুলু সহ আরও অন্যান্য নেতারা।
এদিকে প্রতিবাদ সভার বক্তব্যে কোন প্রার্থীর প্রতিক উল্লেখ করে নির্বাচনী প্রচারণা করার বিষয়টিকে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং নির্বাচনী প্রচারণার উদ্দেশ্যে নামকাওয়াস্তে প্রতিবাদ সমাবেশ করায় প্রতিবাদ সমাবেশটি নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে  স্থানীয় ভোটারদের মাঝে।
যুবক ভোটার রেহহানুল ইসলাম বলেন,  একজনের চিন্তার সাথে অন্য জনের চিন্তার মিল নাও হতে পারে। সমালোচনা বা যে কোন প্রকাশ্য মন্তব্যের প্রতিবাদ হতেই পারে। কিন্তু সংসদ সদস্যের জন্য প্রতিবাদী সমাবেশে কোন প্রার্থীর জন্য নির্বাচনী প্রচারণা চালানো কতটা যৌক্তিক। এটি নি:সন্দেহে পক্ষপাতের বহি:প্রকাশ। তিনি আরও বলেন, আমার কাছে মনে হয়েছে নামকাওয়াস্তে প্রতিবাদ সভা। আসল উদ্দেশ্য নির্বাচনী প্রচারণা। প্রতিবাদ সভায় নির্বাচনী প্রচারণা করাটা সবার কাছেই অতি রঞ্জিত বক্তব্য মনে হয়েছে।
ভোটার রেজাউল করিম বলেন, এ নির্বাচনের ভবিষ্যৎ কি আমি জানিনা এবং বুঝতেও পারছিনা। সংসদ সদস্য একদিকে বলছেন তিনি নিরপেক্ষ আবার তার প্রতিবাদ সমাবেশে নির্বাচনী প্রচারণা চলছে এক প্রার্থীর জন্য। প্রতিবাদ সমাবেশটি প্রতিবাদ সমাবেশ পর্যন্ত ঠিক ছিলো। কিন্তু যখনি প্রতিবাদ সমাবেশে নির্বাচনী প্রচারণার বক্তব্য শোনা গেল তখনি বিষয়টা স্পষ্ট হয়েছে যে এ প্রতিবাদ সমাবেশ আসলে নির্বাচনী প্রচারণারই একটি অংশ।
উল্লেখ্য যে, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল চেয়ারম্যান প্রার্থী আওয়ামীলীগ নেতা হওয়া সত্ত্বেও স্থানীয় সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন এক প্রার্থীর জন্য পক্ষপাত করেছেন এমন অভিযোগ তোলেন দলের নেতাকর্মী ও ভোটাররা।
প্যানেল মেয়র ও আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল কাইয়ুম জানান, সম্প্রতি এমন অভিযোগ তুলে ধরে আমি  কাইয়ুম  আনারস প্রতিকের পথসভায় নিজের ক্ষোভের জায়গা থেকে সংসদ সদস্যকে বিতাড়িত করা হবে এমন সমালোচনা মূলক বক্তব্য দেই। তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্য মুখে নিরপেক্ষতার কথা বললেও তিনি একজনকে সমর্থন করছেন এবং ভোটাররা আমরা বিভ্রান্ত হচ্ছি। এতে করে নির্বাচন প্রভাবিত হওয়ার শঙ্কা করেছি। আমরা চাই একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন।
প্রতিবাদ সমাবেশে নির্বাচনী প্রচারণার বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতা ইন্দ্রনাথের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাচনের সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সদর উপজেলার ইউএনও বেলায়েত হোসেন বলেন, কোন প্রতিবাদ সভায় নির্বাচনী প্রচারণার কোন সুযোগ নেই। যদি এমন হয় তাহলে সেটা স্পষ্ট নির্বাচন আচরণ বিধি লঙ্ঘন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডেস্ক/বিডি/টিএইচ
  • প্রতিবাদ সমাবেশেও মটরসাইকেল মার্কায় ভোট
  •    

    কপি করলে খবর আছে