ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ জমিতে স্থাপনা তুলতে বাঁধা; থানায় অভিযোগ ভূক্তভোগি নারীর

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১ মাস আগে

ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের হাজীপাড়ায় দলিলমুলে ক্রয়কৃত জমিতে স্থাপনা করতে বাঁধা প্রদানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জমির মালিক দাবিকারী ভুক্তভোগী নারী এ বিষয়ে সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ফারজানা আক্তার নামে ওই নারী লিখিত অভিযোগে বলেন, আমার স্বামী জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যুর পর ওই জমিতে স্থাপনা নির্মান করতে যাই। উল্লেখিত জমি আমার শাশুড়ি মোছা: সুফিয়া বেগমের নামে ১৯৫৭ সালের দলিল রয়েছে। দলিলে ঠাকুরগাঁও পৌরসভাধীন জগন্নাথপুর মৌজাস্থ, জেএল নং-১০০, খতিয়ান নং-৮৫৩১, দাগ নং-৩৯৮, জমির পরিমান-৪৬ শতক জমির মালিকানা পেয়ে পরবর্তিতে আমরা জমির হালনাগাদ খাজনা, খারিজ জমা প্রদান করি। কিন্তু প্রতিপক্ষগণ একটা দলিলের কথা বলে আমাদের সেখানে স্থাপনা নির্মানে বার বার বাঁধা প্রদান করে আসছে। যে দলিলের কথা বলছে সেটাও নাকি ১৯৬০ সালে ক্রয় করা, যার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। এর আগে যতবারই ওই জমিতে স্থাপনা করতে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, ততোবারই একটি প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে সেখানে পুলিশ প্রেরণ করে কাজে বাঁধা প্রদান করা হয়েছে। একাধিকবার থানায় বসা হলেও তারা কোনো কাগজ দেখাতে পারেনি, বরং বার বার তারা কাগজ বের করার কথা বলে কালক্ষেপন করে পুলিশ বাহিনীর সময় নষ্ট করেছে।

ফারজানা আক্তার বলেন, এ অবস্থায় গত ২৯ নভেম্বর ওই জমিতে আমরা স্থাপনা নির্মাণ করতে গেলে পৌর শহরের হাজীপাড়া মহল্লার মৃত চৈতু মোহাম্মদের ছেলে মো: আজাদ (৫০), মো: রমজান (৪৭) ও মো: আরিফ (৩৫) স্থাপনা নির্মানে বাঁধা প্রদান করেন। আমাকে কাজে বাঁধা দিলে তাদের জমির দলিল ও কাগজপত্র দেখাতে বললে তারা এবারও দেখাতে পারেনি। আমি প্রতিবাদ করলে প্রতিপক্ষগণ আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং উত্তেজিত হয়ে আমাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি সহ হুমকি প্রদান করেন। থানায় একাধিকবার উভয় পক্ষ বসা হলেও কোন সুরাহা হয়নি। পরে আমার অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কর্মকর্তা আনিত অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন মর্মে আদালতে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেন।

এ ব্যাপারে প্রতিপক্ষ মো: আজাদ (৫০) এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উল্লেখিত ৪৬ শতক জমি আমরা ১৯৬০ সালে দলিলমূলে ক্রয় করে ভোগ দখল করে আসছি। কিন্তু ওই খানে মোট ১ একর ৮৪ শতক জমি রয়েছে। আমাদের প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র রয়েছে। ফারজানা আক্তারগণ দলবল নিয়ে জমি জবর দখলের চেষ্টা করলে আমরা আদালতে ১৪৪ ধারা জারির জন্য আবেদন করি। প্রকৃতপক্ষে ফারজানার শাশুড়ির ছেলে-মেয়েরা এখানে জমি বিক্রি করে দিয়েছেন, তাদের এখনে আর জমি নেই।

এ বিষয়ে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মামুনুর রশীদ (পিপিএম সেবা) জানান, শহরের হাজীপাড়ায় জমি দখল হচ্ছে-এমন খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে দুই পক্ষকে শান্ত করা হয় এবং জমির বিরোধ নিস্পত্তিতে থানায় উভয় পক্ষকে ডাকা হলেও একটি পক্ষ অনুপস্থিত থাকে। পরে ফারজানা আক্তার নামে এক নারী থানায় স্থাপনা নির্মানে বাঁধা প্রদানের উপর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা প্রয়োজনীয় তদন্ত করছি, বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

বিডি/ডেস্ক