ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচন পরবর্তী প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে হয়রানিমূলক মামলা!

লেখক: বাংলা ২৪ ভয়েস ডেস্ক
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান সমর্থকদের ফাঁসাতে ঘটনার ৫০ দিন পর প্রতিপক্ষের নামে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে।

মামলার বাদী মোলানী চুনিহারী এলাকার মো: নয়ন ওরফে রনি মামলায় উল্লেখ করেন, ‘আগামীর স্বপ্ন সমবায় সমিতি’র মাঠকর্মী হিসেবে প্রতিদিনের মতো গত ১৯ এপ্রিল(রবিবার) রাত আটটার দিকে দেহন বাজারে কিস্তি তুলতে গেলে এলাকার সন্ত্রাসী কামরুল, বাবলু, ফিরোজ, জগ বর্মন, তোফাইল, মাহিনসহ অজ্ঞাত ১০/১২ জন তাকে ধরে কামরুলের রাইস মিলের চাতালে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে তার পকেটে ইয়াবা ট্যাবলেট ঢুকিয়ে একলক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। নয়ন উপায় না পেয়ে তার পকেটে থাকা কিস্তির ৩০হাজার টাকা তাদের দিয়ে দেয়। এসময় অভিযুক্তরা ৩০০ টাকার তিনটি ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর নেয়। নয়নের চেঁচামেচিতে বাজারের লোকজন সেখানে উপস্থিত হলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। নয়ন সেখান থেকে বাড়ি আসলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাড়ি গিয়ে শাসিয়ে আসে এবং সে যদি আইনের আশ্রয় নেয় তবে তাকে মেরে ফেলবে।

মামলার প্রধান আসামী ও রায়পুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি কামরুল ইসলাম জানান, বাদী রনি একজন ধান্দাবাজ প্রকৃতির মানুষ। গত ১৮ এপ্রিল রাতে সে কতিপয় ব্যক্তিকে ডিবি পরিচয় দিয়ে এলাকার মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে। বিষয়টি স্থানীয়রা তাকে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন রনি পালিয়ে গেছে এবং ডিবি পরিচয়ধারীরা আসলে ভূয়া। পরদিন ১৯ এপ্রিল রনি ঐ এলাকায় আবারও গেলে স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে এবং হেল্পলাইন-৯৯৯ এ কল করে। ৯৯৯ এর মাধ্যমে অবগত হয়ে সেখানে সদর থানার পুলিশও হাজির হয়। পরবর্তীতে খবর পেয়ে আমি কয়েকজন স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সেখানে উপস্থিত হই। ঘটনার বিস্তারিত জানার পর আমরা রনি’র এলাকার জনপ্রতিনিধি আলম মেম্বারকে ঘটনাস্থলে ডেকে নেই। যেহেতু স্থানীয়রা তাকে আটক করেছে তাই তাকে সুস্থ্য ও স্বাভাবিকভাবে জনপ্রতিনিধির জিম্মায় তুলে দেওয়ার আগে পুলিশ ও স্থানীয় জনগণের সম্মুখে ৩টি ষ্ট্যাম্পে লিখিত নিয়ে রনিকে আলম মেম্বারের জিম্মায় তুলে দিয়ে ঘটনার সমাধান করা হয়।

এদিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন ঘনিয়ে আসে, আমরা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাড. অরুণাংশু দত্ত টিটো’র পক্ষ নেই আর রনিরা আরেক প্রার্থী মোশারুল ইসলাম সরকারের পক্ষ নেয়। নির্বাচনে আমরা পরাজিত হই। আর নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর থেকে রনির আস্ফালন আরও অনেক বেড়ে যায়। আমাদেরকে শায়েস্তা করতে একটি মিমাংসিত বিষয়কে নিয়ে আদালতে আমাকে সহ চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাড. অরুণাংশু দত্ত টিটো’র সমর্থকদের নামে মিথ্যা হয়রানিমূলক চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করে। এটা যে পরিকল্পিত এবং আমাদের হয়রানি করতে এসব করা হয়েছে তা ঘটনার সময়কাল বিবেচনা করলেই যে কেউই বুঝতে সক্ষম হবেন। কেননা ঘটনা গত ১৯ এপ্রিলের অথচ মামলা দায়ের করা হলো ৯ জুন। আমরা এ হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারসহ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তের জোর দাবি জানাই।

এ বিষয়ে রায়পুর ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক জয়দেব রায় জানান, ঘটনাটি আমার কাছেও নির্বাচনী আক্রোশ মনে হয়েছে। কেননা যে ঘটনা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে তা মিমাংসিত ঘটনা। ঘটনা নির্বাচনের আগে হলেও এতোদিন নি:শ্চুপ থেকে নির্বাচনে জেতার পর প্রতিপক্ষ হওয়ায় তাদের নামে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। আর যাদের নামে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে তারা সকলেই আনারস মার্কার প্রার্থী অ্যাড. অরুণাংশু দত্ত টিটো’র সমর্থক। অপরদিকে বাদীপক্ষ বিজয়ী প্রার্থী মটরসাইকেল মার্কার প্রার্থী মোশারুল ইসলামের সমর্থক।

এদিকে ঘটনা জানতে সাংবাদিক পরিচয়ে মামলার বাদী মো: নয়ন ওরফে রনি’র সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে ১৯ এপ্রিলের ঘটনা হলেও কেনো ৯ জুনে মামলা দায়ের করা হলো এমন প্রশ্ন করলে তিনি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে এ প্রতিনিধিকে তার সাথে সরাসরি সাক্ষাতের কথা জানান।

বিডি/ডেস্ক/এফআর

  • প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে হয়রানিমূলক মামলা
  •    

    কপি করলে খবর আছে