ঠাকুরগাঁওয়ে বন্ধকি জমিতে হালচাষ দিতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় স্বামী-স্ত্রী গুরুতর আহত !

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

ঠাকুরগাঁওয়ে এক লক্ষ ষাট হাজার টাকায় বন্ধক নেওয়া ২০ শতক আবাদী জমিতে হালচাষ দিতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় বিরেশ চন্দ্র বর্মন ওরফে বুদারু, তার স্ত্রী ও শ্যালিকা আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বুদারুর শ্যালিকা তৃপ্তী রাণী সামান্য ফোলা-জখম হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে বাসায় পাঠানো হলেও গুরুতর জখম হওয়ায় ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বুদারু ও তার স্ত্রী পারুল বর্মন।

গতকাল শুক্রবার (২২ জুলাই) সকালে সদর উপজেলার শুখানপুকুরী ইউনিয়নের কাঁলিকাগাঁও গ্রামে এ মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৫ জনের নাম উল্লেখ করে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগি পরিবার।

অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন শুখানপুকুরী ইউনিয়ন বিট পুলিশিং অফিসার এসআই মোমিনুল ইমলাম। তিনি জানান, গতকাল শুক্রবার জমির বন্ধকি নিয়ে একটি মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিরেশ চন্দ্র বর্মন নামে একজন ৫ জনের নামে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, গত ৫ বছর পুর্বে  বিরেশ চন্দ্র বর্মন ওরফে বুদারু ওই এলাকার মৃত ভবান্দ্র বর্মনের ছেলে ঊষান বর্মন ২০ শতক জমি বন্ধকি বাবদ এক লক্ষ ষাট হাজার টাকা গ্রহন করেন। বিগত পাঁচ বছর ধরে ওই জমিতে আবাদ করে ফসল ঘরে তুলেছেন বুদারু।গত ছয় মাস পুর্বেও একবার বন্ধকি জমিতে হালচাষ করতে গেলে ঊষান বর্মনের ছেলে বাসুদেব, কবির, বিকাশ ও তার স্ত্রী সন্ধ্যা রাণী বাঁধা প্রদান করেন। সেসময় ঘটনাটি স্থানীয় আ’লীগ নেতৃবৃন্দসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বসে শালিস-সমাধান করে দেন।

পরবর্তী গত ২২ জুলাই সকালে আমন ধান রোপনের জন্য বুদারু জমিতে হালচাষ করতে গেলে আবারও তারা সংঘবদ্ধ হয়ে বুদারুর উপর হামলা চালান। এসময় স্বামীকে বাঁচাতে তার স্ত্রী পারুল এগিয়ে গেলে তাকেও বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন ঊষান বর্মনের পরিবারের সদস্যরা। এদিকে বোনের এ অবস্থা দেখে তাকে বাঁচাতে শ্যালিকা তৃপ্তী রাণী এগিলে গেলে তাকেও লাথি-ঘুসি মারেন প্রতিপক্ষরা। পরে তাদের আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে গেলে প্রতিপক্ষরা পরবর্তীতে বুদারুকে একা পেলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

মারামারির ঘটনা জানতে ঊষান বর্মনের ছেলে বিকাশ চন্দ্র বর্মনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মারামারির ঘটনা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, শুধু বুদারুর পরিবার আহত হয়নি, তার ছোটভাই সহ আরও কয়েকজন এ ঘটনায় আহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে ওই এলাকার সাবেক মেম্বার রবিন চন্দ্র জানান, বন্ধকি জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ দেখা দেওয়ায় গত ৬ মাস আগে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে মিমাংসা করে দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু গতকাল কেনো আবার তাদের মধ্যে দাঙ্গা-মারামারির ঘটনা ঘটলো তা বোধগম্য নয়। এসময় সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শুখানপুকুরী ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি জীবন কুমার ঘোষ জানান, জমির বন্ধকি নিয়ে ঝাঁমেলা হওয়ায় উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে মিমাংসা করে দেওয়ার পরও কি কারণে তাদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে তা জানা নেই।যেহেতু শালিস বৈঠকের সিদ্ধান্ত মানা হয়নি, তাই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিডি/ডেস্ক