ঠাকুরগাঁওয়ে বিয়ের আশ্বাসে গর্ভপাত, ঘটনা ফাঁস হওয়ায় মারধরের শিকার গৃহবধূ !

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

ঠাকুরগাঁওয়ে বিয়ের প্রলোভনসহ ৩বিঘা জমি লিখে দেওয়া ও স্ত্রী’র স্বীকৃতি দেওয়ার আশ্বাসে গর্ভপাত ঘটিয়েছেন গাজিউর রহমান গাজী নামে এক ব্যক্তি।বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে তাকে ডেকে দুই দফায় বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে বলে অভিযোগ নির্যাতিতার ছেলের।

বর্তমানে তিনি অসুস্থ অবস্থায় ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।ঘটনাটি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শুখানপুকুরী ইউনিয়নের পশ্চিম শুখানপুকুরী গ্রামের।

ভুক্তভোগির ছেলে আবু সালেক এর অভিযোগ, তার বাবা আবু বক্কর মারা যাওয়ার পর তার মা ছালেহা বেগম স্থানীয় পশ্চিম শুখানপুকুরী জামাতপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত-ফজল মন্ডলের ছেলে গাজী’র সাথে স্থানীয় সিনসিলা দরবারে যাওয়ার সুবাদে পরকীয় সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ অবস্থায় তার মা গর্ভবতী হয়ে পড়লে গাজী’র কাছে এর সমাধান চান (এ সংক্রান্ত একটি অডিও ক্লিপ এ প্রতিনিধির নিকট রয়েছে)।গাজী বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তার মাকে তিন বিঘা জমি লিখে দেওয়াসহ স্ত্রী’র অধিকার দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে গেল রোজার মাসে পেটের বাচ্চা নস্ট করতে ঢাকা পাঠিয়ে ঔষুধ খেতে দেন এবং পরবর্তীতে এ্যাবোশন করান। পরে ঢাকা থেকে ফিরে এসে গাজীকে স্ত্রীর স্বীকৃতি দিতে চাপ দিলে সে টালবাহানা শুরু করেন।

বিষয়টি বুঝতে পেরে নিজেদের সেই দরবারে অভিযোগ দেন ছালেহা বেগম।সেখানেও ন্যায় বিচার করে দেওয়ার কথা বলে দীর্ঘ ৫-৬ মাস অতিবাহিত করে দরবারের সর্দার ঈমান আলী, কাশেম আলীসহ দরবারের নীতিনির্ধারকেরা।

আবু সালেক আরও জানান, শুক্রবার সকালে গাজী’র বাড়ীর সামনে দিয়ে তার মা যাওয়ার সময় তাকে ডেকে বেধড়ক মারধর করেন গাজী।এসময় ছালেহা বেগমের ভাইস্তা বৌমা দুলালী ও জা আঞ্জুয়ারা বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাকে উদ্ধার করে তাদের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে আবারও গাজী’র পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এসে আরেক দফা মারধর করেন তার মাকে।পরে তারা চলে গেলে আহত মাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সালেক তার মায়ের উপর এ অন্যায়-অবিচারের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন এবং মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে দরবারের সর্দার ঈমান আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তারা দুজনেই আমাদের দরবারের সদস্য, কিন্তু দরবারের কারণে এ ঘটনা-এটা সঠিক নয়।তবে দরবারে অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে ওই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নলিনী কান্তের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে নারীকে মারধরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি ভূক্তভোগিকে হাসপাতালে ভর্তি করে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত গাজিউর রহমান গাজীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে ফোনটি তার স্ত্রী পরিচয়ে একজন নারী রিসিভ করেন এবং তিনি ফোন রেখে বাইরে গেছেন বলে তাকে ফোন করার কারণ জানতে চান।পরে এ প্রতিনিধি গাজিউর রহমানকে কারণ বলতে চাইলে ওই নারী ফোনটি পাশে বসে থাকা গাজিউর রহমান গাজীকে ধরিয়ে দেন। এসময় নির্যাতিতা নারীর অভিযোগের বিষয়টি তাকে অবগত করলে তিনি প্রথমে ওই নারীকে না চেনার ভান করেন, পরে বিস্তারিত বললে তিনি মারপিটসহ ওই নারীর গর্ভপাত ঘটানোর বিষয়গুলো অস্বীকার করেন। তবে ফোন রেকর্ডিং এর কথোপোকথনের কথা জানালে তিনি বলেন, সেই সময় তাকে বিয়ের জন্য ওই নারী প্রস্তাব দিছিলো, তার বড় বড় সন্তান থাকায় তিনি ওই নারীর প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে জানতে শুখানপুকুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি আমি লোকমুখে শুনেছি, তবে এখনো কেউ অভিযোগ দেয়নি।অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ রিপোর্ট লিখা অব্দি নারী নির্যাতনের বিষয়ে ভুক্তভোগির ছেলে আবু সালেক বাদী হয়ে সদর থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।

বিডি/আরএফ