ঠাকুরগাঁওয়ে যুবলীগ নেতাকে নির্যাতনের ঘটনায় ওসি সহ ৫ পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩ সপ্তাহ আগে

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ে যুবলীগ নেতাকে থানায় নির্মমভাবে নির্যাতনের অভিযোগে সদর থানার ওসি মো: কামাল হোসেন সহ ৫ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার অন্য আসামীরা হলেন- পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মো: লতিফ (৪৫), এসআই খোকা চন্দ্র রায় (৩৬), এসআই মোতালেব (৩৭) ও এএসআই মো: হাফিজ (৩৪)। বুধবার (১০ মে) দুপুরে ভুক্তভোগী জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান পুলক বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এই মামলা দায়ের করেন। 

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক বাদী পুলকের কাছ থেকে পুলিশের দ্বারা অমানবিক নির্যাতনের বিস্তারিত বর্ণনা শুনেছেন এবং ২৪ ঘন্টার মধ্যে নির্যাতন ও চিকিৎসার তথ্য প্রমাণাদি আদালতে জমা দেয়া নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সাথে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর হোসেনকে একটি মোকাদ্দমা রুজু করার নির্দেশ দিয়ে ঘটনার বিচার বিভাগীয় নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য জেলায় কর্মরত একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটকে দ্বায়িত্ব দিয়েছেন।

আরও পড়ুন : বালিয়াডাঙ্গীতে ১৫০০ পিচ ইয়াবা সহ আ.লীগ নেতা আল মনসুর গ্রেপ্তার!

প্রসঙ্গত, গত ২৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁও সাধারণ পাঠাগার চত্বরে অনুষ্ঠিত বৈশাখী মেলায় দর্শনার্থী হিসেবে যায় জেলা যুবলীগের ক্রীড়া সম্পাদক খালিদ সিরাজ রকি। এসময় কতিপয় ছেলে অকারণে হট্টগোল করলে এতে সে বাঁধা দেয় এবং তাদের ঝগড়া নিরসনের চেষ্টা করে। এদিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে কোনকিছু না শুনে রকিকে মারধর শুরু করে এবং টেনে-হেচড়ে ভ্যানে নেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। বিষয়টি জানতে পেরে যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশে ঘটনাস্থলে ছুটে যান জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান পুলক। এসময় তিনি সদর থানার ওসি মো: কামাল হোসেনকে তাকে আটকের বিষয়ে ও মারধরের কারণ জানতে চান। কিন্তু ওসি তার কথা কর্ণপাত না করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করায় উল্টো পুলকের উপর চড়াও হন এবং রকি ও পুলককে মারধর করতে করতে থানায় নিয়ে যান।

এরপর থানা হাজতে নিয়ে চোখে গামছা পেঁচিয়ে ও হাতে হ্যান্ডকাপ পড়িয়ে আসাদুজ্জামান পুলককে বেধড়ক পিটিয়ে বাঁ হাত ভেঙ্গে দেন। একপর্যায়ে তারা নিস্তেজ হলে তাদের মধ্যরাতে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং পরদিন তাদের দুজনের নামে ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১৫১ ধারা মতে মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করেন।

মামলার বাদী ও জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান পুলক বলেন, কোন রকম অন্যায় না করার পরও ওসি কামাল হোসেন উদ্দেশ্যমুলকভাবে তার উপর বর্বর নির্যাতন চালিয়েছে। ওসির নির্দেশে আমার চোখ গামছা দিয়ে বেঁধে হাতে হ্যান্ডকাপ পড়িয়ে ফ্লোরে শুইয়ে তার উপর চালায় অমানবিক নির্যাতন। পুলক বলেন, একজন মানুষ এমন নির্দয় হতে পারে তা আমি কখনো দেখিনি। আমার শারীরিক অবস্থা খারাপ জেনেও আমাকে ট্রিটমেন্ট নিতে দেননি এই ওসি। ওসি আমার সাথে যে অন্যায় ও অবিচার করেছে, তা যাতে আর কারো সাথে না করতে পারে এই আশায় ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আমি মামলা দায়ের করলাম। আশা করি মহামান্য আদালত ন্যায় বিচার করবেন।

মামলার আইনজীবি অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম বলেন, পুলকের উপর পুলিশ অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে। তার মৌলিক অধিকারগুলো থেকেও তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমরা আশাবাদি আদালত ন্যায় বিচার করবেন।

ডেস্ক/বিডি

     

কপি করলে খবর আছে