ঠাকুরগাঁও রোড বাজারের ৬.৫৫ একর খাস খতিয়ানভূক্ত জমি অবৈধ দখলদারদের হাতে, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার!

লেখক: বাংলা ২৪ ভয়েস ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ মাস আগে

স্টাফ রিপোর্টার : ঠাকুরগাঁও পৌরসভাধীন ঠাকুরগাঁও রোড বাজারের ৬.৫৫ একর জমি এখন অবৈধ দখলদারদের কবলে। দখলে থাকা জমিতে নির্মাণ করা হচ্ছে বড় বড় বিল্ডিং-ইমারত, আবার কেউ কেউ অবৈধ দখলে রাখা জমিটি ভাড়া দিয়ে বছরের পর পর ধরে অর্থ উপার্জন করে চলেছেন, কিন্তু সরকারি এ সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলদারদের কবলে থাকলেও সেই সম্পত্তি উদ্ধারে সরকারিভাবে নেওয়া হয়নি জোড়ালো কোনো পদক্ষেপ। ফলে অবৈধ দখলদাররা দিনের পর দিন হাত বদল করে বেপরোয়াভাবে আয়-ইনকাম করলেও সরকার হারাচ্ছে মোটা অংকের রাজস্ব।

এদিকে কিছু কিছু অবৈধ দখলদার নাম পর্চা করে সরকারি সম্পত্তি নিজের নামে করে নেওয়ার চেষ্টা করলে বিষয়টি নজরে আসে পৌর কর্তৃপক্ষের। তাই গত ৬মার্চ ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র আঞ্জুমআরা বেগম বন্যা খাস খতিয়ান নং-১ এর জমি ব্যক্তি মালিকানায় পর্চা না দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর ঠা:পৌ:প্র:শা:/২০২১-২০২২/২৮২৩ স্মারকমূলে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা মেলে বড় বড় ইমারত নির্মানের বাস্তব চিত্র, তবে এ বিষয়ে কেউই কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি। বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা প্রান্তিক চাষীরা তাদের শাক-সবজিসহ অন্যান্য খাদ্যশস্য বিক্রির উদ্দেশ্যে বাজারে এলেও বাজারের নির্ধারিত স্থান না থাকায় অন্যের দোকানের সামনে বসে ভাড়া দিয়ে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে। এছাড়াও রয়েছে সরকারি টোল ১০ টাকা এবং তোলা(বাজার পরিচ্ছন্নকারির) ৫টাকা, অর্থাৎ একজন প্রান্তিক কৃষক যদি তার খাদ্যশস্য বিক্রি করতে ঠাকুরগাঁও রোড বাজারে আসে তাহলে তাকে টোল/তোলা বাবদ ১৫ টাকা ছাড়াও বাড়তি গুণতে হচ্ছে বসার স্থানের টাকা। স্থান ভেদে এ ভাড়া প্রতিদিন ৫০টাকা থেকে শুরু করে ১৫০টাকা পর্যন্ত রয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।

হাটের জায়গা না পেয়ে রাস্তার উপর পণ্য বিক্রি করছে প্রান্তিক কৃষকেরা

হাটের জমিতে বড় বড় স্থাপনা নির্মানের বিষয়ে জানতে চাইলে হাট কমিটির সভাপতি মো: গোলাম জানান, আমার দখলে থাকা জমিতে আমি যা খুশি তাই করতেই পারি, এতে কারো কোনো বলার নেই। জেলা প্রশাসক বরাবর মেয়রের আবেদন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা সম্পুর্ণ ভিত্তিহীন আবেদন। নাম পর্চা যদি কেউ করে থাকে বা প্রশাসন যদি পর্চা দেয় তাহলেও তা বৈধ হবে না। তবে যদি ভূমি মন্ত্রণালয় হতে এর অনুমোদন হয় তবেই দখলদাররা পর্চা করতে পারবেন এবং সেটা বৈধ হবে।

এ বিষয়ে ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর একরামুদ্দৌলা সাহেব জানান, এ ওয়ার্ডের রোড বাজারে ৫টি দাগে ১ নং খাস খতিয়ানভূক্ত ৬.৫৫ একর জমি অবৈধ দখলে রেখে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছে অবৈধ দখলদাররা।এতে করে বিশাল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য মেয়র মহোদয় জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দিয়েছেন।আশাকরি সরকার বাহাদুর দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহন করে খাস জমি উদ্ধার করতে সক্ষম হবেন।

এ বিষয়ে জানতে সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা মো: শাহরিয়ার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,ঠাকুরগাঁও রোড বাজারের কিছু জমি অবৈধভাবে দখলে রেখে ব্যবসা-বাণিজ্য করছে অনেকে।আমরা কাগজপত্র খতিয়ে দেখছি, অবৈধ দখলদারদের চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসক মো: মাহাবুবুর রহমানের সাথে মওঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মেয়র মহোদয়ের আবেদন পেয়েছি।কাগজপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

ডেস্ক/বিডি