পার্ক শিশুদের, আড্ডা দেন মাদকসেবিরা

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা শিশুপার্কের চারদিকে কোনো সীমানাপ্রাচীর নেই। খোলা জায়গায় স্থানীয়দের যাতায়াতও আছে। এর মাঝেই প্রকাশ্যে সেখানে চলে মাদক সেবন। ভারত সীমান্তঘেঁষা এ উপজেলা পার্কের সীমানাপ্রাচীর সংস্কার কাজও বন্ধ আছে। উপজেলা ডাকবাংলো রোড দিয়ে একটু সামনে এগোলেই হাতের ডান পাশে এই পার্ক। ভেতরে মাঝখানে গোল টিনশেড ঘরে বসার স্থান। সেখানে বসে আড্ডা দিচ্ছে কয়েক কিশোর। তাদের অভিযোগ, পার্কের ভেতর প্রকাশ্যে মাদক সেবন করা হয়। মাদকসেবী তরুণ, যুবকদের দেখাদেখি কিশোররাও এর সঙ্গে জড়াচ্ছে। সন্ধ্যার পর মাদক ব্যবসায়ীরাও এখানে বিক্রি শুরু করেন। পার্কের পাশেই হরিপুর থানা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ‘উপজেলা প্রশাসন শিশুপার্ক’ নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৮ সালের শেষের দিকে পার্কটি চালু হয়। হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এলজিএসপি প্রকল্পের প্রায় ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ থেকে পার্কে তারকাঁটার বেড়া, ফটক, কয়েকটি বসার বেঞ্চ ও গাছ রোপণ করে ব্যয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাতা নির্মাণের কাজ এখনো বাকি রয়েছে।

সে সময় দায়িত্বে থাকা ইউপি সদস্য ও প্রকল্প সভাপতি ছিলেন ফজলুর করিম। তার কাছে মোট ব্যয়ে ও কাজের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, বরাদ্দ থেকে এসব কাজ করা হয়েছে। এ ছাড়া শিশুদের দোলনা এডিপি বরাদ্দ থেকে এসেছে।

স্থানীয় মাদ্রাসা শিক্ষার্থী মোহম্মদ সাইফুল্লাহ বলেন, পার্কটির যখন কাজ শুরু হয়, তখন খুব আশান্বিত হয়েছিলাম। কিন্তু বর্তমানে এর পরিবেশ শিশুদের জন্য ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। বখাটেদের উৎপাত, মাদক সেবন, ইভটিজিং সবই চলে এখানে। এসব বন্ধ করে পার্কটি শিশুদের জন্য বিনোদনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

জামাল ইকবাল নামে এক অভিভাবক বলেন, শিশুদের খেলার একটি মাত্র স্লিপার। তাও মরিচা পড়ে গেছে ও নিচের অংশে ফেটে গেছে। এরপরও ঝুঁকি নিয়ে শিশুরা ওঠানামা করছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

বেলি আক্তার নামের এক শিক্ষার্থী জানায়, দিনদুপুরেও পার্কের ভেতরে আসা যায় না। স্থানীয় ও বহিরাগত ছেলেরা আড্ডা দেয়, নেশা করে ও মেয়েদের ইভটিজিং করে। হরিপুর উপজেলায় বিনোদনের কোনো জায়গা নেই। প্রশাসন পার্কটি সুন্দর করে সাজালে শিশুসহ সবার বিনোদনের জায়গা হবে এটি।

হরিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘মাদক প্রতিরোধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শিশুপার্কে মাদক সেবন বা মাদক কারবার নিয়ে আগে কেউ অভিযোগ করেনি। তবে আমরা এখন সেখানে আরও তৎপরতা বাড়াবো।’

এ বিষয়ে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বহ্নি শিখা বলেন, মাদক নির্মূলে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। পার্কের ভেতরেও মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে। পার্ক সংস্কারের বিষয়ে ইউএনও বলেন, এলজিএসপি ও এডিপির বরাদ্দ থেকে পার্ক উন্নয়নের কাজ করা হয়। পার্কটি অনেক বড়, তাই আর্থিক বরাদ্দসংকটের কারণে খুব বেশি কাজ করা হয়নি। দ্রুত পার্ক সংস্কারের কাজ করা হবে বলেও জানান তিনি।

বিডি/এসআর