“পুলিশের নামে নেগেটিভ নিউজ হলে বদনাম হয় পুরো পুলিশ বাহিনীর”

লেখক: নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৮ মাস আগে

“কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে যদি নেগেটিভ নিউজ হয়, তখন এ পুরো বদনাম পুলিশ বাহিনীর উপর পড়ে যায়। ঘটনা সত্য হোক আর মিথ্যা হোক, সংবাদটি কিন্তু সাধারণ পাঠকের মনে প্রশ্নের ঝড় তোলে।অপরদিকে সেই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শুরু হয় ডিপার্টমেন্টালি তদন্ত। তদন্তে সত্য ঘটনা উঠে আসলেও তা কিন্তু আর পরবর্তীতে প্রকাশ হয় না।অর্থাৎ সাধারণ মানুষ পুলিশের মন্দ কাজের কথা জানতে পারলো, কিন্তু সেটা কতোটুকু সত্য তা আর জানতে পারলো না- এতে করে পুলিশ বাহিনীর ভাবমুর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হয়”- এমনিভাবেই নিজের ক্ষোভের বহি:প্রকাশ জানাচ্ছিলেন ঠাকুরগাঁও সদর থানার পুলিশ কনস্টেবল রুহুল আমিন।

সম্প্রতি তাকে জড়িয়ে সারাবাংলা ডট নেট নামে একটি অনলাইন পত্রিকায় “পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে এমন কথা বলেন তিনি।

তিনি জানান, সংবাদে লিখা হয়েছে আমি নাকি বেশিরভাগ সময় অফিস ফাঁকি দিয়ে পঞ্চগড়ে আমার গ্রামের বাসায় গিয়ে জমি দখল করে বেড়াই। আরে ভাই, পুলিশের চাকরি এতো সহজ নয় যে, আপনি চাইলেই অফিস ফাঁকি দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করে বেড়াবেন, আর আপনার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চুপ করে বসে থাকবেন। আগে ভালোভাবে খোঁজ-খবর নেন, তারপরে সেই ব্যক্তির নামে সংবাদ করেন আমার আপত্তি নেই। কিন্তু না জেনে-শুনে এভাবে মনগড়া কথা লিখে সংবাদ প্রকাশ করা কতোটা যৌক্তিক?

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, সংবাদে যেসকল ব্যক্তির কথা লিখা হয়েছে তারা সকলে আমার আত্মীয়-স্বজন।অথচ তাদের কোথাও প্রতিবেশী, ভাইকে বানানো হয়েছে ভাইস্তা এমন সব উদ্ভট পরিচয় দিয়ে সংবাদ প্রকাশ আসলে খুবই দূ:খজনক। আমাদের পারিবারিক জমি বন্টন নিয়ে একটু সমস্যা রয়েছে, সে বিষয়ে সমাধানের জন্য চেষ্টাও চালানো হচ্ছে।

তিনি জানান, আমাদের আত্মীয়-স্বজন যারা আমাদের ভাগের জমি দীর্ঘদিন ধরে দখল করে খাচ্ছেন তা জানার জন্য ২০১৬ সালে আমরা ১৯৬৫ সাল থেকে সমস্ত কাগজপত্র যাচাই করি, এতে দেখা যায় আমরা তাদের কাছে ২.৭০ শতক জমি পাই। পরে এ বিষয়ে সমঝোতায় বসলে তারা ১.২৫ শতক জমি ফেরত দিতে সম্মত হয়। এ বিষয়ে তৎকালীন সার্ভেয়ার মো: আব্দুর রহমান বিষয়টি নিস্পত্তির লক্ষে তাদের অংশীদারদের মধ্যে কারা কতোটুকু জমি কিভাবে, কোন দাগ থেকে ফেরৎ দিবেন তা উল্লেখ করে আমাদের স্কেচ ম্যাপ করে দেন।পরবর্তীতে সেই জমিগুলোও তারা এখনো আমাদের ফেরৎ দেয়নি।উল্টো আমাদেরই বদনাম করতে তারা সাংবাদিককে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছেন।

পুলিশ কনস্টেবল রুহুল আমিন বলেন, এর আগেও আমার ছোট ভাই নুর ইসলামকে নুরুল হক গং’রা মারধর করে, পরে সে বিষয়টি সদর থানায় মিমাংসা করা হয়। জমির বিরোধের কথা বলে ইউনিয়ন পরিষদে নুরুল হক অভিযোগ দিলে পরিষদ থেকে দুইবার নোটিশ দিলেও আমরা হাজির হয়েছি, কিন্তু অভিযোগকারিরা উপস্থিত হয়নি।এ থেকেই বোঝা যায় যে, তাদের মধ্যে কুটিলতা রয়েছে।

এছাড়াও নুরুল হক গং’রা ২০০৯ সালে একটি বাটোয়ারা মামলা দায়ের করেন, যা এখনো চলমান। তবে এসব নির্মূলে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

এ বিষয়ে নুরুল হক গং এর ভাই আনোয়ারুল এর কাছে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান, আমার ভাইস্তা কাকে যেনো এনে আমার কাছে জমির বিষয়ে বলতে বলে।পরে দেখি আমার নাম দিয়ে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে রুহুল ও নুরদের বিষয়ে জমি দখলের কথা লিখা।আমি এসব কথা বলিনি যা পত্রিকায় লিখা হয়েছে।

এদিকে আব্দুল ওয়াহাব নামে প্রতিবেশি পরিচয়ে সংবাদে যাকে উপস্থাপন করা হয় তিনি রুহুল ও নুর ইসলামের চাচা।তিনিও জানান, এসব বিষয়ে কেউ তাকে জিজ্ঞাসাবাদই করেনি, অথচ তার নাম উল্লেখ করে সংবাদ ছাপা হয়েছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান তিনি।

এ বিষয়ে কথা হয় পঞ্চগড় সদর উপজেলার ৩নং পঞ্চগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আল ইমরান খাঁন এর সাথে। তিনি জানান, জমি সংক্রান্ত বিষয়ে ডাংগাপাড়া এলাকার একটি অভিযোগ এসেছে।তবে দুইটি নোটিশ পাঠানো হলেও একটি পক্ষ গ্রাম আদালতে উপস্থিত হয়নি।

এ ব্যাপারে রুহুল আমিনের ভাই নুর ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার ভাই ঠাকুরগাঁও সদর থানায় চাকরি করে। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে তিনি বাসায় আসেন না।সেই ঈদের আগে একবার এসেছিলেন, এরপর আর আসেননি।তবে আত্মীয়-স্বজনদের সাথে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের বিরোধ রয়েছে বলে জানান তিনি।

পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি তানভিরুল ইসলাম জানান, রুহুল আমিন একজন চৌকষ পুলিশ কনস্টেবল।তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর পরই আমরা তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের ডেকে ঘটনার সত্যতা জানার চেষ্টা করি। এতে দেখা গেছে নিউজে যা লিখা হয়েছে এর কোন সত্যতা নেই, বিষয়টি আমি আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবগত করেছি।

বিডি/ডেস্ক