পুলিশ হেফাজতে যুবকের মৃত্যু; এসআই ক্লোজড!

লেখক: আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

লালমনিরহাটে পুলিশ হেফাজতে রবিউল ইসলাম (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় সদর থানার এসআই হালিমকে ক্লোজড করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) তাকে ক্লোজড পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ওসি শাহ আলম।
এর আগে, পুলিশের নির্যাতনে রবিউল ইসলামের মৃত্যু দাবি করে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেছে জনতা।
মৃত রবিউল ইসলাম খান সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের কাজিচওড়া গ্রামের দুলাল খানের ছেলে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার নববর্ষ উপলক্ষে মহেন্দ্রনগর বাংলাবাজার এলাকায় মেলা বসায় স্থানীয়রা। মেলাকে ঘিরে রাতে জুয়ার আসর বসলে গোপন খবরে সেখানে অভিযান চালিয়ে রবিউলসহ দু’জনকে আটক করে পুলিশ।
অন্য জুয়াড়িরা পালিয়ে যান। তবে সে সময় রবিউল জুয়া খেলেনি দাবি করে পুলিশভ্যানে উঠতে আপত্তি জানান। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা কাটাকাটিও হয়। একপর্যায়ে রবিউলকে মারধর ও জোর করে টেনে পুলিশভ্যানে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। পথে রবিউল অসুস্থতাবোধ করলে তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে নেওযার পরামর্শ দেন। কিন্তু রমেকে নেওয়ার প্রস্তুতির সময় জরুরি বিভাগেই রবিউলের মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর এ খবরে দিনগত রাতেই মহেন্দ্রনগর বাজারে লালমনিরহাট-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে অভিযুক্ত সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হালিমের শাস্তি দাবি করেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে পুলিশভ্যানে হামলা ও ভাঙচুর করে অবরোধকারীরা।
একই দাবিতে শুক্রবার সকাল থেকে একই স্থানে মহাসড়ক অবরোধ করে রবিউলের হত্যাকারী পুলিশ সদস্যের কঠোর শাস্তির দাবি জানান এলাকাবাসী। অবশেষে অভিযুক্ত এসআই হালিমকে দুপুরের দিকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়। এর পরই অবরোধ তুলে নেয় এলাকাবাসী।
রবিউলের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, এক সপ্তাহে আগে রবিউল বাড়িতে বেড়াতে এসেছেন। মেলার খবর পেয়ে বেড়াতে যান সেখানে। রবিউল জুয়া খেলেননি, তাই পুলিশ ভ্যানে উঠতে রাজি হচ্ছিলেন না। এ জন্য পুলিশ তাকে মারধর করে ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়। পুলিশের লাথিতে অণ্ডকোষে আঘাতপ্রাপ্ত হন তিনি। কিন্তু দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা এতে পাত্তা না দিয়ে বলেন, রবিউল অভিনয় করছেন।
লালমনিরহাট সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি নির্দেশনায় এসআই হালিমকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
লালমনিরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
বিডি/বারী