পৌষের বিকেল রাঙালো ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌঁড়

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে

রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের ‘ঘোড়া’ কবিতার কয়েকটি লাইন এ রকম, ‘মহীনের ঘোড়াগুলো ঘাস খায় কার্তিকের জ্যোৎস্নার প্রান্তরে; প্রস্তরযুগের সব ঘোড়া যেন এখনো ঘাসের লোভে চড়ে…’ না, এ ঘোড়াগুলো মহীনের নয়, কার্তিকের জ্যোৎস্নার প্রান্তরেও তারা ঘাসের লোভে আসেনি। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নানা রং ও আকারের প্রায় অর্ধশত ঘোড়া সমবেত হয়েছিল একটি স্থানে। এগুলো এসেছিল জয়-পরাজয়ের খেলায়।

পৌষের কুয়াশামাখা শীতের দুপুর থেকে বিকেলকে দৌঁড়ে দৌঁড়ে রঙিন করেছে, উষ্ণ করেছে এই ঘোড়া ও ঘোড়সওয়ারের দল। বছরের প্রথম দিন রবিবার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের বিলপাড়া মাঠে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌঁড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল সালন্দর চাষী ক্লাব। এটি তাদের প্রতিবছরের নিয়মিত আয়োজনেরই একটি অংশ।

রবিবার বিকেল ৪টায় বিলপাড়া মাঠে গিয়ে দেখা যায়, শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষসহ হাজারো মানুষে ভরা পুরো মাঠ। মাঠের ভেতর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে লাল, কালো, সাদাসহ ছোট-বড় অনেক ঘোড়া। সেগুলো ঘিরে আছেন ঘোড়ার মালিক, সহযোগী ও শিশু-কিশোর ঘোড়সওয়ারেরা। ঘোড়াগুলোকে নানাভাবে যত্ন করা হচ্ছে। কেউ ঘোড়ার পিঠ-ঘাড় ঘষে দিচ্ছেন। কেউ পা টেনে দিচ্ছেন। ঘোড়াগুলো এসেছে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে। প্রতিটি ঘোড়ার সঙ্গে একজন করে শিশু-কিশোর ঘোড়সওয়ার আছে।

ঘোড়ার মালিকরা বলেন, বিভিন্ন স্থানে হওয়া প্রতিযোগিতায় ঘোড়া নিয়ে যাই। খেলায় হারা-জিতা আছে। খালি জিতার জন্য দৌঁড় প্রতিযোগিতায় আসি না। আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সালন্দর ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মাজেদুর রহমান।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সভাপতি অ্যাড. অরুণাংশু দত্ত টিটো।

এসময় সালন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলে এলাহী মুকুট চৌধুরী, জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল মজিদ আপেল, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য দেবাশীষ দত্ত সমীর সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

শেষে বিজয়ী ঘোড়সওয়ারদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাব পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের অতিথিদ্বয়।

আয়োজকরা জানান, ‘এই ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার একটা উদ্দেশ্য আছে। নতুন প্রজন্ম ঘোড়দৌঁড় কী, তা জানে না। আমরা ছোটবেলায় ঘোড়দৌঁড় দেখেছি। এটি গ্রামবাংলার একটি প্রাচীন ঐতিহ্য। এটা অনেকটাই হারিয়ে গেছে। আমরা তরুণ ও শিশুদের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া এ খেলাকে পরিচিত করাতে চাইছি। এ ছাড়া প্রতি নতুন বছরের প্রথম দিনটাও যেন আনন্দ-উল্লাস করে কাটে, সে ব্যবস্থা করেছি।’

বিডি/ডেস্ক