বালিয়াডাঙ্গীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হলদিবাড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল হোসেনের বিরুদ্ধে ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার বিষয়টি জানাজানি হলে এলাজুড়ে ক্ষোভের সঞ্চার হয় অভিভাবক মহলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় বেশ কিছু দিন আগে ওই বিদ্যালয় প্রধান টিফিন সময়ে ভূক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে তার গায়ে হাত দেয়। সে সময় ওই শিক্ষার্থী ভয়ে অজ্ঞান হয়ে যান। এমন সময় স্কুলে বাকী শিক্ষার্থীরা আসা শুরু করলে কোনমতে তার জ্ঞান ফিরিয়ে তাকে বাসায় পৌছে দেওয়া হয়।এমন ঘটনার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দেয় শিক্ষক বাবুল।

জানা যায় ওই অভিযুক্ত শিক্ষক বাবুল বালিয়াডাঙ্গী শিক্ষক সমিতির সভাপতি। তাই তার কুকর্ম ধামাচাপা দিতে তাকে সহযোগিতা করেন সকলে।

কিন্তু পরে বিষয়টি কোনভাবে জানাজানি হলে ভূক্তভূগী ওই শিক্ষার্থীর বাবা বিচার নিয়ে যান স্থানীয় চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের কাছে।

ভূক্তভোগীর বাবা বলেন, আমার মেয়ে আমাকে ভয়ে কিছু বলেনি। কিন্তু গ্রামের অনেকে আমাকে এ কথা বলাতে আমি যাচাই করে সত্যতা পাই। তাই আমি কোন উপায় না পেয়ে গত রোববার চেয়ারম্যানের কাছে যাই। চেয়ারম্যান আমাকে আইনের আশ্রয় নিতে বলেন।

স্থানীয় ভানোর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি একটি ঘৃণ্য ঘটনা। আমার কাছে আসলে আমি আইনের আশ্রয় নিতে বলি এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে বিষয়টি জানাই।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রশিদ বলেন, ঘটনাটি আমি শুনে তদন্ত করছি। দোষী প্রমাণিত হলে অবশ্যয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ওই শিক্ষক বাবুল ইসলামকে খুঁজতে তার স্কুলে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি এবং তিনি ফোনও রিসিভ করেনি।

এদিকে বুধবার এলাকায় নতুন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। স্থানীয়রা বলছে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ওই ভূক্তভোগীর বাবার সাথে ঘটনাটি মিমাংসা করেছেন বিদ্যালয় প্রধান। আর আজকে থেকে ওই পরিবারের কাউকেই এলাকায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। কেউ মোবাইল ফোনও রিসিভ করছেনা। এতে করে এলাকায় চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় অভিভাবক মহসিন আলী বলেন, এমন যদি হয় পরিস্থিতি আর বাস্তবতা তাহলে আমরা যাবো কোথায়। আমরা মানবন্ধন করবো আন্দোলন করবো। যে অভিযোগ উঠেছে আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই।

আরেক অভিভাবক জিয়াউল হাসান বলেন, ঘটনাটি শোনার পর থেকে আমার মেয়েকে স্কুলে পাঠাতে ভয় পাই। আমরা গ্রামের সাধারণ মানুষ। গ্রামের চেয়ারম্যানেই আমাদের ভরসা। তার উপরই বিষয়টি ছেড়ে দিলাম। আমরা শুধু বলতে চাই। তিনি যেন কোন অপরাধীকে ছাড় না দেন।

চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় জনগণ যদি আমাকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত অভিযোগ দেন তাহলে আমি অবশ্যয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

বিডি/তানু