ভিজিএফয়ের চাল নিয়ে তেলেসমাতি কান্ড; যা জানালো বৃদ্ধা মহচেনা!

লেখক: অরুন শংকর চক্রবর্তী, সহবার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ৯ মাস আগে

“ঈদের তানে ইউনিয়ন পরিষদত ১০ সের করে ত্রাণের চাউল দেছে শুনে মুইও গেনু পরিষদত।মোর কোনো কার্ড ছিল নি, মেম্বার-চেয়ারম্যানলা সারাদিন চাউল দেছে, মুহ সারাদিন পরিষদত বসেছু।সবার চাউল দেয়া শেষ হইলে মোক হামার মেম্বারটা আর পাল পাড়ার পুলিন ডাকে হেনে চাউল দিলে।আর বারান্দাত যেইলা চাউল পড়েছিল সেইলাও মুই জরায় হানে বাড়ীত নি আইচ্চু”- এভাবেই গতকাল ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়ন পরিষদে চাল কুড়িয়ে নেওয়ার বর্ণনা দিলেন ওই ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের লালবাজার এলাকার মহচেনা নামের সেই বৃদ্ধা।

অথচ সরকারের ভিজিএফয়ের চাল না পেয়ে বিতরণের পর পরিষদের বারান্দায় পড়ে থাকা চাল কুড়িয়ে বাড়ী ফিরেছেন মহচেনা এমন সংবাদ প্রকাশ হয় দু-একটি গণমাধ্যমে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের সুত্র ধরে সরেজমিনে ভুক্তভোগি ওই বয়স্ক নারীর সাক্ষাতকার নিলে এমন ঘটনা জানা যায়।

এ বিষয়ে কোনো সংবাদকর্মী জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান কেউ তাকে এসব বিষয়ে জানতে চায়নি।বরং তার কাছে কোনো স্লীপ না থাকা সত্বেও চেয়ারম্যান তাকে ডেকে চাল দেওয়ায় চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ৭নং ওয়ার্ডের পাল পাড়ার বাসিন্দা পুলিন চন্দ্র পালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গতকাল সারাদিন ইউনিয়ন পরিষদে ওই বৃদ্ধাকে বসে থাকতে দেখে তিনি নিজেই চেয়ারম্যানকে বলে তার চালের বন্দোবস্ত করে দেন।

এ বিষয়ে আকচা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুব্রত কুমার বর্মন বলেন, আমার ইউনিয়নে মোট ২২৫০ জন হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে ভিজিএফয়ের চাল প্রদান করা হয়েছে।সম্পুর্ণ স্বচ্ছতার সাথে চাল বিতরণ করেছি। অথচ চাল কুড়িয়ে তোলার একটি ছবি দিয়ে ঘটনার সত্যতা যাচাই না করে সংবাদ প্রকাশ করায় আমি বিস্মিত হয়েছি।আমি সংবাদকর্মী ভাইদের আরও সচেতনতার সাথে সংবাদ প্রকাশ করার জন্য অনুরোধ করছি, কেননা একটি ভূল ম্যাসেজ সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করে।

বিডি/অরুন