রাণীশংকৈলে ইউপি চেয়ারম্যানের প্রত্যয়নে জুলেখা বেঁচে থেকেও মৃত!

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৯ মাস আগে

গত এক বছরে কয়েকবার বয়স্ক ভাতার টাকা তুলেছেন। সে টাকা দিয়ে  সংসার খরচ ও ঔষুধ কিনেছেন। এবারে আশেপাশে সবার টাকা মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্টে এলেও টাকা আসেনি তাঁর। তাই সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করে কারন জানতে গেলে তাকে বলা হয় তিনি মারা গেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়ন পরিষদের বয়স্কভাতা সেবা গ্রহিতা জেলেখা বেগমের সাথে।

উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মো: আব্দুল বারী জেলেখাকে মৃত দেখিয়ে প্রত্যয়ন দেওয়ায় এমনটা ঘটেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

জেলেখা ওই ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সান্ধরাই গ্রামের আব্দুর রহিমের স্ত্রী।

সম্প্রতি গণমাধ্যমের কাছে জীবিত বৃদ্ধা জেলেখা বেগম এসব কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইউনিয়ন জুড়ে বয়স্কভাতা ও বিধবাভাতা জন্য মাইকিং করা হয়। সে সময় বয়স্কভাতার জন্য আবেদন করলে তার নাম চুড়ান্ত হয়। এক বছর ভাতা পেয়েছেন তিনি বিকাশ নাম্বারের মাধ্যমে। হঠাৎ ভাতার টাকা আসা বন্ধ হলে তিনি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে গেলে তাকে বলা হয় তিনি মারা গেছেন। তার ভাতা বন্ধ করে অন্য একজনকে ভাতা দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আমার নাকি মৃত্যুর প্রত্যয়ন আছে। কিন্তু আমি তো জীবিত। তিনি আক্ষেপ চোখে বলেন, আমার মতো গরীবের সাথে কেন এমন নয় ছয় হলো? আমি চেয়ারম্যান ও মেম্বার বাদশাকে কয়েকবার বলেছি, সে কেন আমাকে মৃত দেখালো। কোন উত্তর পাইনি। আমি এর বিচার চাই এবং আমার ভাতা যেন বন্ধ না হয় সেই দাবি জানাই।

আরও পড়ুন : ঠাকুরগাঁওয়ে ভূমিদস্যু আক্কাস আলীর বিরুদ্ধে আ’লীগ নেতার মিল-চাতাল দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

নন্দুয়ার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল বারী স্বাক্ষরিত একটি প্রত্যয়নে জেলেখা বেগমকে মৃত বলা হয়েছে। প্রত্যয়নে চেয়ারম্যান বলেছেন, তিনি জলেখা বেগমকে চিনেন এবং জানেন ও তিনি ৭ ডিসেম্বর ২০২৩ খ্রিঃ মৃত্যু বরণ করেছেন। শুধু তাই নয় তার বয়স্ক ভাতা বাতিল করে আশরাফ আলী নামের একজনকে যেন বয়স্কভাতার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় সে সুপারিশও করেছেন চেয়ারম্যান। এ প্রত্যয়নে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাদশা স্বাক্ষর শনাক্ত স্বাক্ষর করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে নন্দুয়ার ইউপি সদস্য মোঃ বাদশার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় শুনে ফোন কেটে দেন এবং মুঠোফোন বন্ধ করে দেন।

নন্দুয়ার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল বারীর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোস রিসিভ করেননি। জানা গেছে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন।

রাণীশংকৈল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুর রহিম বলেন, চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত মৃত্যুর সনদ পেয়ে আমরা বিধি মোতাবেক তার ভাতা বন্ধ করেছি এবং অন্য একজনককে ভাতা দিয়েছি।

এ বিষয়ে রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল সুলতান জুলকার নাঈন কবির স্টীভ বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে ওই বৃদ্ধার ভাতা চালুর ব্যবস্থা করেছি। এখন থেকে তিনি ভাতা পাবেন। তবে কি কারনে এমন কাজ হয়েছে, কেন তাকে মৃত দেখানো হয়েছে-এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শুনানি শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেস্ক/বিডি

  • জুলেখা বেঁচে থেকেও মৃত
  •    

    কপি করলে খবর আছে