রাণীশংকৈলে বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে টেন্ডার ছাড়াই গাছ বিক্রির অভিযোগ

লেখক: রাণীশংকৈল, ঠাকুরগাঁও থেকে...
প্রকাশ: ৯ মাস আগে

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা বন কর্মকর্তা শাহাজাহান আলীর বিরুদ্ধে সরকারি বনায়নের একটি বড় আকারের ইউক্যালিপটাস গাছ কোন ধরনের নিলাম বা টেন্ডার ছাড়াই বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি ঝড়ে উপজেলার হোসেনগাঁও ইউনিয়নের রামরায় থেকে হোসেনগাঁও গ্রামের বনায়নের রামরায় মোড় এলাকার একটি বড় ধরনের ইউক্যালিপটাস গাছ ওই এলাকার নুরুলের গরুর ঘরের উপর পড়ে যায়। এতে নুরুল ইসলামের গরুর ঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

খবর পেয়ে উপজেলা বন কর্মকর্তা শাহাজাহান আলী ও ওই বনায়ন সমিতির সভাপতি শ্রী মানিক চন্দ্র রায় ঘটনাস্থলে যান। এ সময় ঝড়ে গাছ পড়ে গরুর ঘর ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া নুরুল গাছটি তাদের কাছ চান। তবে গাছ বিনে পয়সায় দিতে নারাজ বন কর্মকর্তা শাহাজাহান আলী ও বনায়ন সমিতির সভাপতি মানিক।

পরে অনেক রফাদফার পর নগদ ৫ হাজার টাকায় গত ২০ এপ্রিল নুরুলের কাছে গাছ বিক্রি করেন বন কর্মকর্তা শাহাজাহান আলী। অভিযোগ রয়েছে এই বন কর্মকর্তা শাহাজাহান আলী বনায়ন সমিতির সহায়তায় এমন অনেক গাছেই ইতিমধ্যে বিক্রি দিয়েছেন।

গাছ ক্রেতা নুরুল বলেন, গাছটি তিনি বনায়ন সমিতির সভাপতি মানিকের উপস্থিতিতে উপজেলা বন কর্মকর্তা শাহাজাহান আলীর নিকট নগদ ৫ হাজার টাকায় কিনে নিয়েছেন। এটির কাঠ দিয়ে তিনি গরুর ঘর ঠিক করবেন বলে জানান।

রামরায়-হোসেনগাঁও বনায়ন সমিতির সভাপতি শ্রী মানিক চন্দ্র রায় বলেন, ঝড়ে গাছটি ওই এলাকার নুরুলের গরু’র ঘরে পড়ে ঘরটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। নুরুলও গাছটি কিনে নিতে চায়। তাই আমি বন কর্মকর্তা’কে বলে এবং তার উপস্থিতিতে ৫ হাজার টাকায় গাছটি নুরুলের কাছে বিক্রি করে দেওয়াই। টাকা ৫ হাজার বন কর্মকর্তা নিয়েছেন। তবে টাকা এখন কি করবেন জানতে চাইলে এটি তার ব্যাপার বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বন কর্মকর্তা শাহাজাহান আলী মুঠোফোনে গাছ বিক্রির কথা অস্বীকার করে বলেন, গাছ কেনো বিক্রি করবো? আপনি বনায়ন সমিতির সভাপতি মানিকের সাথে কথা বলেন বলে ফোন কেটে দেন। পরে আবার নিজে ফোন দিয়ে বলেন, গাছ বিক্রি হয়নি যেখানে গাছ ঝড়ে পড়েছিল সেখানেই গাছটি এখনো পড়ে রয়েছে। গাছ বিক্রির কথা সমিতির সভাপতি মানিক নিশ্চিত করেছে জানালে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে ব্যাস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন।

বিডি/ডেস্ক