রাণীশংকৈলে মামলায় আসামী করার ভয় দেখিয়ে ওসি পরিচয়ে মোবাইল ফোনে চাঁদাবাজি! 

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম জাহিদ ইকবালের পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে চাঁদা দাবি করে টাকা আদায় করা হচ্ছে-এমন অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক ইউপি সদস্য।
রাণীশংকৈলে গত ২৭ জুলাই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন পরবর্তী  সহিংসতার ঘটনায় ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ও দুই সহকারী পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এএসআই) বাদী হয়ে ৮শ’ আসামি করে মামলা করে-আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ওসি পরিচয় দিয়ে অজ্ঞাতনামার মামলার বিভিন্ন আসামি, ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বারসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি করেছে প্রতারক চক্র।
বুধবার সকালে এ তথ্য জানান ওসি এসএম জাহিদ ইকবাল। তিনি বলেন, ওসি’র পরিচয়ে একটি প্রতারক চক্র বিভিন্নভাবে মোটা অঙ্কের টাকা দাবী করছে, আমরা নাম্বার গুলো যাচাই করার চেষ্টা করছি।
তিনি আরো জানান, ওসি’র পরিচয়ে মুঠোফোন নম্বর থেকে একটি প্রতারক চক্র কিছুদিন ধরে উপজেলার বাচোর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় ব্যক্তিদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছে।
বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে সকল ইউপি চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ফোন করে সতর্ক করে দেন তিনি। এই ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হবে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয়রা বলছেন, ইউপি নির্বাচন পরবর্তী  সহিংসতার ঘটনায় পৃথক ৩টি অজ্ঞাতনামা মামলার ভয়ে গত কয়েকদিন ধরেই চলছে পুলিশের নামে চাঁদাবাজি। এলাকাছাড়া নিরিহ মানুষের উপর যেন এটি মরার উপর খড়ার ঘাঁ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত ২৭ জুলাই বাচোর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ভাংবাড়ী ভিএফ নিন্ম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে পুলিশের গুলিতে শিশু নিহতের ঘটনায় প্রিজাইডিং কর্মকর্তা খতিবুর রহমান সহ পুলিশের পৃথক ৩টি মামলা করায় গ্রেপ্তার আতংঙ্কে রয়েছে এলাকাবাসি। এ সুযোগে ওসি পরিচয়ে চলছে নিরব চাঁদাবাজি। যদিও পুলিশ প্রশাসন বলছে তদন্ত ছাড়া নিরীহ কাউকেই হয়রানি করা হবেনা।
ওই ওয়ার্ডের নির্বাচিত ইউপি সদস্য বাবুল হোসেনকে মামলার ভয় দেখিয়ে ওসি পরিচয়ে সোমবার (১ আগষ্ট) হুমকি দিয়ে বলে যে, ব্যাটা মেম্বার হয়ে বসে আছিস মামলা থেকে বাঁচতে এক্ষুনি বিকাশে টাকা দে নতুবা তোকেও অজ্ঞাত মামলার আসামি বানাবো। মামলা থেকে রেহাই পেতে বাবুল ২৬ হাজার টাকা দেয় বিকাশে।
এমনিভাবে খড়রা গ্রামের হাকিমের পুত্র রুহুলকেও ওসি পরিচয়ে ২০হাজার টাকা দাবি করে। আলম নামে একজনের কাছেও মামলার ভয় দেখিয়ে ০১৭৭৩৭১৮০৪১ নং মোবাইলে ফোন দিয়ে ০১৭৬৪৭৫৯১৩৫ নং বিকাশে ১০হাজার টাকা দাঁবি করে টাকা আদায় করা হয় ।
এ প্রসঙ্গে রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) এস এম জাহিদ ইকবাল জানান, ইউপি সদস্য বাবুল হোসেনের একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারক চক্র শনাক্ত করা হবে। এবিষয়ে তদন্ত চলছে ওসি পরিচয়ে প্রতারক চক্রকে খুব শিঘ্রই  আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।
বিডি/আকাশ