লিচু খাওয়ার উপকারিতা

লেখক: লাইফ স্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ মাস আগে

মৌসুমী সুমিষ্ট ফল হিসেবে হিসেবে লিচুর জুড়ি মেলা ভাড়। তরমুজ, আমের পিছু নিয়ে এবার বাজারে এসে গেল লিচুর মৌসুম! গাছে গাছে পাকতে শুরু করেছে লিচু। সেইসঙ্গে বাজারেও উঠেছে লিচু। তবে এক্ষুণি কাঁচার মতো স্বাদের লিচু না খেয়ে কয়েকদিন পরে খেলেই ভালো। গ্রীষ্মের এই রসালো ফল খুব কম সময়ের জন্য আসে। তাই দেরি করতে গিয়ে আবার লিচু নাই খেতে পারলেন এমন হলে চলবে না।

অতুলনীয় স্বাদ ও গন্ধের জন্য লিচু অনেকের কাছেই প্রিয়। ছোট থেকে বড়ো যে কেউ লিচুর স্বাদ নিতে চান। খোসা ছাড়িয়ে মুখে পুরলেই, আহা! শুধু স্বাদই নয়, পুষ্টিগুণেও ভরপুর এই ফল। নানা অসুখ থেকে দূরে রাখে লিচু। চলুন জেনে নেওয়া যাক লিচুর উপকারিতাগুলো—

ভিটামিনসমৃদ্ধ ফল

লিচুতে পাওয়া যায় ভিটামিন সি, কে, ই এবং বি৬। এতে আছে রাইবোফ্লাভিন এবং নিয়াসিন। গ্রীষ্মে নিয়মিত লিচু খেলে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ভিটামিন বি৬ এর দশ শতাংশ পাওয়া যায়। এ ভিটামিন শরীরে লোহিত রক্তকণিকা তৈরি করে। সঙ্গে রক্ষা করে প্রদাহজনিত রোগ থেকে।

হার্ট ভালো রাখে

হার্ট ভালো রাখাতে সহায়ক লিচু। এতে অলিগোনল থাকে; যা নাইট্রিক অক্সাইড তৈরিতে সাহায্য করে। আমাদের শরীরে রক্ত চলাচলে সাহায্য করে এই নাইট্রিক অক্সাইড। এতে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড ভাসকুলার ফাংশন উন্নত করে। ফলে হৃদরোগ প্রতিরোধ করা সহজ হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত লিচু খেলে হার্টের অসুখের ঝুঁকি কমে প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ।

পেটের জন্য উপকারি

লিচু হজমের জন্য ভালো। লিচুতে ফাইবার ও প্রচুর পানি থাকে; যা হজমের জন্য দারুণ কাজ করে। গরমে পেটের সমস্যা থেকে মুক্তি দিয়ে পেটকে স্বস্তিতে রাখে।

হাড়ের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ

লিচুতে থাকে ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ এবং কপার। যা হাড়ের ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লিচু খেলে হাড়ের ভঙ্গুরতা কমে। সঙ্গে হ্রাস পায় অস্টিওপোরোসিস ও ফ্র্যাকচারের সম্ভাবনা। তাই হাড় ভালো রাখতে খেতে পারেন সুমিষ্ট এই ফল।

কিডনির জন্য উপকারি

কিডনি ভালো রাখতে খাবারের দিকে নজর রাখা জরুরি। লিচুতে পর্যাপ্ত পানি এবং পটাসিয়াম থাকায়, কিডনিতে জমে থাকা দূষিত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। এই ফল ইউরিক অ্যাসিডের ঘনত্বও কমায়। যে কারণে কমে কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি।

ব্যথা নিরাময় করে

শরীরের বিভিন্ন ধরনের ব্যথা দূর করতে কাজ করে লিচু। শুনতে অবাক হলেও এটি সত্যি। লিচু একটি কার্যকরী ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে। এটি খেলে কমে প্রদাহ। সেইসঙ্গে এটি টিস্যুর ক্ষতি প্রতিরোধ করে।

ওজন কমাতে সাহায্য করে

যারা ওজন কমাতে চান তাদের জন্য কার্যকরী একটি খাবার লিচু। এতে ক্যালোরি থাকে খুব কম। ফলে ওজন বাড়ার ভয় থাকে না। আঁশযুক্ত হওয়ায় লিচু খেলে তা দীর্ঘ সময় পেট ভরিয়ে রাখে। নিয়মিত লিচু খেলে হজমশক্তি উন্নত হয়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে লিচু। এর অলিগোনল ভাইরাসকে বাড়তে বাধা দেয়। তাই গরমের এই সময়ে নিয়মিত লিচু খেলে বাঁচতে পারবেন সর্দি ও সাধারণ ফ্লু থেকে।

অতএব, লিচু খান মন ভরে, মোটেও পেট ভরে নয়। সেক্ষেত্রে বদহজম হয়ে উপকারের চেয়ে ক্ষতির সম্ভাবনাই বেশি।

বিডি/ডেস্ক