হানিমুনের জন্য বিশ্বের সেরা ৯ স্থান

লেখক: বাংলা ২৪ ভয়েস ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

নব দম্পতিরা সর্বদাই খোঁজ করেন হানিমুনের সেরা স্থানগুলোর। অনেকেরই বিয়ের আগে পরিকল্পনা থাকে হানিমুনে সুইজারল্যান্ড কিংবা দুবাই যাবেন।

তবে বিশ্বে আরও বেশ কিছু হানিমুন ডেস্টিনেশন আছে, যেসব স্থান ভ্রমণের মাধ্যমে আপনি চোখ জুড়াতে পারেন। যদিও সবার পক্ষে হানিমুনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করা সহজ বিষয় নয়!

তবে অনেকেই তাদের এই ইচ্ছে পূরণ করেন জাকজমকতার সঙ্গে। ঠিক তেমনই হানিমুনের জন্য বিশ্বসেরা কয়েকটি জনপ্রিয় স্থান আছে। জেনে নিন তেমনই ৯ স্থানের খোঁজ-

সুইজারল্যান্ড

আল্পস পর্বতের মাঝামাঝি অবস্থিত সুইজারল্যান্ড একটি ছোট দেশ। তুষার মুকুট পরিহিত আল্পসের চূড়া, ঝিলমিল করা নীল পানির হৃদ, এমারেল্ড ভ্যালি, হিমবাহ সুইজারল্যান্ডের সৌন্দর্য দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়।

সেখানে আছে বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক রিসোর্ট, হাইকিং, বাইকিং, ক্লাইম্বিং, স্কিইং, প্যারাগ্লাইডিং ও স্লেজ গাড়িতে চড়ার সুবিধা। হানিমুনের জন্য সুইজারল্যান্ড এক জনপ্রিয় স্থান। সেখানকার রাজধানী বার্ন মধ্যযুগীয় পুরোনো শহর।

জার্মানি, ইতালি, অস্ট্রিয়া ও ফ্রান্স দ্বারা পরিবেষ্টিত সুইজারল্যান্ড। সুইজারল্যান্ডের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে আছে- মেটারহর্ন, জাংফ্রোজস, ইন্টারলাকেন, লুসারণ ইত্যাদি।

প্রাগ

চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগ। শহরের মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে ভলটাভা নদী। নদীর উপর আছে ১৫টি সেতু, চার্লস ব্রিজ যার মধ্যে সবচেয়ে পুরোনো। ৫০০ মিটার লম্বা সেতুটি ইউরোপের দীর্ঘতম গথিক স্থাপত্যের ব্রিজ। ১৩৫৭ সালে সম্রাট চতুর্থ চার্লস এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন, তারই নামে এই সেতু।

প্রাগ হানিমুনের জন্য সেরা এক গন্তব্য। ‘স্বর্ণ শহর’ নামে পরিচিত প্রাগ পূর্ব ইউরোপ ভ্রমণের শীর্ষে থাকবে। প্রতিবছর ৪০ লাখ পর্যটক ভিড় করেন সেখানে। প্রাগের অনিন্দ্য সুন্দর চার্চ, ওল্ড টাউন হলের গ্লোকেন স্পিল শোনেন, চেক বিয়ারের স্বাদ নেন ও চার্লস ব্রিজ থেকে প্রাগ ক্যাসেল পর্যন্ত ঘুরে বেড়ান।

বালি

বালি ইন্দোনেশিয়ার একটা দ্বীপ আর সাউথ ইষ্ট এশিয়ার সবচেয়ে পপুলার ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশনের একটি। সাদা বালির বিচ, পাহাড়, রাইস ট্যারেস, ভলক্যানো, পুরোনো মন্দির সব কিতছু মিলিয়ে সহজেই পৃথিবীর বুকে স্বর্গ বলা যায় বালিকে। বালির মতো ভার্সেটাইল ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশন বিশ্বে খুব কমই আছে।

ছোট একটি আইল্যান্ড অথচ সেখানকার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে শেষ করতে পারবেন না আপনি! হানিমুনে যাওয়ার পরিকল্পনায় বালির নামটিও যুক্ত করতে পারেন। বালি শুধু একটি মনোরোম স্থান নয়, বিশ্বের সবচেয়ে রোমান্টিক গন্তব্যগুলোর মধ্যেও একটি। যেখানে আপনি সঙ্গীর সঙ্গে কিছু দুর্দান্ত সময় কাটাতে পারবেন।

দক্ষিণ আফ্রিকা

প্রকৃতি ও বুনো হাতিকে কাছ থেকে দেখতে সঙ্গীকে নিয়ে হানিমুনে যেতে পারেন সুদূর দক্ষিণ আফ্রিকায়। এমনকি সেখানে গিয়ে লং ড্রাইভে কিংবা ট্রিপেও বেড়োতে পারবেন। দক্ষিণ আফ্রিকা সফর আপনার স্বপ্নকে সত্যি করে তুলবে।

তুরস্ক

প্রাকৃতিক দৃশ্য, সমৃদ্ধ ইতিহাস, রঙিন উৎসব, মজাদার সব খাবার ও প্রচুর শপিংয়ের জন্য যেতে পারেন তুরস্ক। দম্পতিদের জন্য তুরস্ক একটি সেরা স্থান।

প্রকৃতি যেন পাহাড়-পর্বত, সমুদ্র, হ্রদ, জলপ্রপাত, নদীতে তার সবটুকু সৌন্দর্য ঢেলে দিয়েছে। ফলে দেশটিতে বাংলাদেশি ভ্রমণপিপাসুদের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে।

দুই দেশে খুব সহজেই মিলছে ভ্রমণ ভিসা। সীমিত বাজেটে তুরস্ক ঘুরে আসতে পারেন আপনিও। এজন্য দরকার একটি ট্যুর পরিকল্পনা। ভিসার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ আবেদন ফি দিতে হবে।

ভিসা পেতে গড়ে ১৪ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। সাধারণত ভ্রমণ ভিসায় তিন মাস পর্যন্ত সময় থাকে। এ সময়ের মধ্যেই ঘোরাঘুরির জন্য উত্তম সময়টি বের করতে হবে।

সেশেলস

কেনিয়া উপকূল থেকে প্রায় ১০০০ মাইল দূরে ভারত মহাসাগরের মাঝখানে একটি স্বর্গের দ্বীপপুঞ্জ, সেশেলস। ১১১টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত সেশেলস। যার মধ্যে বেশিরভাগই জনবসতিহীন।

রাজধানী, ভিক্টোরিয়া বৃহত্তম ও সর্বাধিক ঘনবসতিপূর্ণ দ্বীপ মাহেতে অবস্থিত। সেশেলসের সাদা বালি ও স্ফটিক সমুদ্র সৈকত সব পর্যটকেরই নজর কাড়ে। হানিমুনের জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্য স্থনটি।

সেশেলসে বিলাসবহুল সৈকত রিসর্টগুলোর চাহিদা এখন তুঙ্গে। সমুদ্র, পাহাড়, নীল পানি, সবুজ গাছপালায় ঘেরা সেশেলসের বেশিরভাগ দ্বীপ। সেখানে গেলে আপনি নিজের জন্য ব্যক্তিগত দ্বীপ ভাড়া নিয়ে থাকতে পারবেন।

দুবাই

হানিমুনের জন্য বর্তমানে সেরা এক স্থান হলো দুবাই। সেখানকার বুর্জ খলিফা কাছ থেকে দেখার সাধ সবার মনেই আছে! দুবাইয়ের সমুদ্র খুব বিখ্যাত। ইয়েলো বোট রাইডস এ ভ্রমণে দেখা যাবে পাম দ্বীপ, বুর্জ আল আরব, দুবাই মেরিনা ও পাম লেগুন।

দুবাই বেড়াতে গেলে মরুভূমিতে সাফারি ভ্রমণ করতে ভুলবেন না। বেশির ভাগ সাফারি ভ্রমণেই থাকে বালিয়াড়ি ভ্রমণ, বেলি ড্যান্স, শিশা, তনুরা ড্যান্স, কোয়াড বাইক ভ্রমণ ও খাবার।

দুবাই শহর থেকে এক ঘণ্টার ড্রাইভিংয়ে যেতে পারেন অ্যাডভেঞ্চার ওয়ার্ল্ড। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নিজস্ব পরিবেশে কেনাকাটার জন্য সেখানে রয়েছে গ্লোবাল ভিলেজ।

ফিজি দ্বীপপুঞ্জ

প্রতিবছর হাজারো পর্যটক ভিড় করেন ফিজি দ্বীপপুঞ্জে। ক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের একটি দেশ ফিজি ৩০০টিরও বেশি দ্বীপের একটি দ্বীপপুঞ্জ। এর মধ্যে ১১০টিতেই জনবসতি নেই।

ফিজির রাজধানী হল সুভা ও এখানকার প্রচলিত মুদ্রার নাম হল ফিজিয়ান ডলার। জানেন কি, বাংলাদেশিরা ছয় মাসের জন্য ফিজিতে ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারে।

বাংলাদেশের পাসপোর্ট দিয়ে ‘ভিসা অন অ্যারাইভাল’ সুযোগ নিয়ে ভ্রমণ করা যায়। আগে থেকে ভিসা নেয়ার ঝামেলা নেই। বাংলাদেশ থেকে সরাসরি কোনো ফ্লাইট নেই ফিজিতে। তবে সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক হয়ে আকাশপথে ফিজিতে যেতে পারেন।

ফিজি দ্বীপপুঞ্জের চারদিকে সুন্দর প্রবাল প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত। যা সামুদ্রিক জীবনের সঙ্গে ভাসমান। সঙ্গীকে নিয়ে কিছুদিন নিরিবিলি সময় কাটাতে ভ্রমণ করতে পারেন ফিজি দ্বীপপুঞ্জে।

ডেস্ক/বিডি